একসময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মানেই ছিল বয়সে প্রবীণ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আধিপত্য। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বয়স্ক নেতাদেরই বেশি দেখা যেত। তবে এবার সেই চিত্রে পরিবর্তনের আভাস মিলছে মাদারীপুরের শিবচরে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তফসিল ঘোষণা না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন বয়সে তরুণ অনেকেই।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিবচরের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই এবার তরুণদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা উন্নয়ন, আধুনিক সেবা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় থাকা কয়েকজন তরুণ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশীর মধ্যে রয়েছেন উমেদপুর ইউনিয়নে ইমতিয়াজ আহমেদ খান তুরাগ (তুরাগ খান) ও মো. হাবিবুল্লাহ শিকদার, ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নে তালুকদার মুজাহিদ, দত্তপাড়া ইউনিয়নে মো. আল-আমিন শেখ এবং বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নে মহিউদ্দিন খানসহ আরও অনেক বয়সে তরুন সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উমেদপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী ইমতিয়াজ আহমেদ খান তুরাগ (তুরাগ খান) বলেন, “সময় পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ তরুণদের নেতৃত্বের ওপর নতুন করে আস্থা রাখছে। তরুণরা পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করতে চায়। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল উমেদপুর ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করা। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই আমি মাঠে নেমেছি।”
তিনি আরও বলেন, “জনপ্রতিনিধিত্বের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণে কাজ করা। মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে কাজ করতে চাই।”
উমেদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিক মুন্সী বলেন, “সময় বদলেছে, মানুষের চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা তরুণ, কর্মঠ এবং সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত যিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন, ভোটাররা তাকেই মূল্যায়ন করবেন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, তরুণ ভোটারদের সক্রিয়তা এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহের কারণে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
তবে তফসিল ঘোষণা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই প্রার্থিতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেবেন, সেটিই হবে নির্বাচনের মূল বিষয়।