Thursday, 22nd October, 2026

নড়িয়ায় রাতের আঁধারে বসত বাড়ি ভাংচুর করে লুটপাটের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চান্দনী এলাকায় রাতের আাঁধারে বসত বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আবু আলম শেখদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক নারী আহত হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মৃত মকবুল শেখের পরিবারের সাথে শালু শেখদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এই বিষয়ে আদালতে দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। পারিবারিক ও মামলার জের ধরে গত ৪ আগস্ট দুপুরে প্রতিপক্ষের আবু আলম শেখ, সালাম শেখ, শামীম শেখ, মিজান শেখ ও শালু শেখ মৃত মকবুল শেখের বাড়িতে গিয়ে পুত্র সজিব শেখ ও তার স্ত্রী কুসুম বেগমের গালমন্দ করে। প্রতিবাদ করারয় সজিব শেখকে আসামীরা মারধর করে গুরুতর আহত করে। সেই বিষয়ে আহত সজিব শেখের বড় ভাই রাজীব শেখ ৫ আগস্ট নড়িয়া থানায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা করে। মামলা পরবর্তী পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। সেই বিষয়ে অন্যান্য আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ৯ আগষ্ট রাত তিনটার দিকে বাদী রাজীব শেখের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসত ঘরের বেড়া কোপায়। এক পর্যায়ে ঘরের জানালা ভেঙ্গে আসামী আবু আলম শেখ ও সালাম শেখ ঘরে প্রবেশ করে স্টীলের আলমারি ও শো-কেস ভেঙ্গে লুটপাট করে। শোরচিৎকার করায় আসামীরা কুসুম বেগমের মুখ চেপে ধরে নির্যাতন করে। ভাংচুরের শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এসে কুসুম বেগমকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
মামলার বাদী রাজীব শেখ জানায়, বিবাদীরা তাদের জমি তাদের নামে রেকর্ড করে নিয়ে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। উক্ত বিষয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আসামীরা তার ছোট ভাই সজিবকে মারধর করেছে। পরবর্তীতে গভীর রাতে বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এই বিষয়ে পুনরায় নড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুসুম বেগম জানায়, আসামীরা তার ছেলেদের মারধর করতে পারে এমন ভয়ে রাতে তারা বাড়িতে ছিল না। রাত ৩টার দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এসে দরজা খুলতে বলে। দরজা না খোলায় আসামীরা ঘরের বেড়া কুপিয়ে ও জানালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। আবু আলম শেখ ও ছালাম শেখ স্টীলের আলমারী ও শো-কেস ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বার্ণালংকার নিয়ে যায়। সেই সময় অন্যান্যরা বাহির থেকে ঘরের বেড়া ভাংচুর করে। চিৎকার করায় তার মুখ চেপে ধরে গুরুতর আহত করা হয়।
প্রতিবেশী আবু সিদ্দিকের স্ত্রী শানানা জানায়, গভীর রাতে কুসুম বেগমের চিৎকার শুনে তারা যায়। সেখানে গিয়ে দেখে ঘরের ভিতরে ভাংচুর পরবর্তী জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। তখন সেখানে অন্য কোন লোকজন ছিল না।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে গিয়ে কোন পুরুষ লোক পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা সালাম শেখের স্ত্রী পিয়ারা বেগম জানায়, ঘটনার সময় তার স্বামী সালাম শেখ ছোট ভাইয়ের সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকার ধানমন্ডিতে হাসপাতালে ছিলেন। এই ঘটনার সাথে তার স্বামীর কোন সম্পৃক্ততা নাই।
নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে এসআই জোবায়ের হোসেন জানায়, ভাংচুরের বিষয়ে নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে মামলা রজু করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।