শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় মো. লিটন খান (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী।
লিটন খান নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারে ‘লিটন ডেকোরেটর অ্যান্ড লাইটিং’-এর স্বত্বাধিকারী। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে রাকিব মাদবর নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে পারিবারিক অনুষ্ঠানে ডেকোরেটর ও লাইটিং ভাড়া নেওয়ার আলোচনার জন্য তাকে জপসা ইউনিয়নের রমেশ মাঝির খেয়াঘাটে যেতে বলা হয়।
অভিযোগে মামলার বাদী ও ভিকটিম লিটন খান বলেন, ফোনে বলে দেওয়া স্থানে গিয়ে তিনি হৃদয় মল্লিক (২৩), রাকিব মাদবর (২১), রানা মাদবর (২২), মানিক মৃধা (২৪) সহ আরও ৫-৬ জনকে দেখতে পান। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। তার দাবি, ঘটনার আগে তিনি ওই ব্যক্তিদের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে সেখানে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই নড়িয়া থানায় ২৫ নম্বর মামলা করেন লিটন খান। মামলাটি দণ্ডবিধি আইনের ১৪৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬, ১৪৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিটন খান আরও অভিযোগ করেন, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়েরকে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের যোগসাজশ থাকায় আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার না করলে আসামীদের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত আবেদনে লিটন খান তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বা অন্য কোনো সংস্থার কাছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আসামিদের কথিত যোগসাজশের বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।
ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়ের হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বাদীর অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য। ঘটনা পরবর্তী একজন আসামী গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাদীর দেখানো মতে কয়েক বার অভিযান পরিচালনা করেও আসামীদের পাওয়া যায়নি। আসামী গ্রেফতারে ব্যাপারে আমাদের কোন গাফিলতি নেই। গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। বাদী উদ্দেশ্য প্রণোদীত ভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেছেন।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো. জাকারিয়া রহমান বলেন, একজন আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের সাথে জড়িত কোন কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তাও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।