Wednesday, 21st October, 2026

নানা বাড়িতে শিশুর মৃত্যু, পিতা ও তার পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যা

পিত্রালয়ে বেড়াতে গিয়ে স্ত্রী নাদিরা স্বামী হানিফ শিকারীকে ফোনকলে জানিয়ে ছিলেন তিনি স্বামীর সংসার আর করবেন না। সেই ফোনকল যে এতো ভয়াবহ হতে পারে তা বুঝতে না পেরে ৪ বছর বয়সী সন্তান হাফিজুর রহমানকে হারাতে হল পিতা হানিফ শিকারীকে। হানিফের শ^শুর পরিবারের দাবী শিশু হাফিজুর রহমান পানিতে ডুবে মারা গেছে। অপর দিকে হানিফ শিকারী ও তার পরিবারের দাবী শিশু হাফিজুরকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পিতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হানিফ শিকারী ও তার পারিবার সূত্র জানায়, কয়েক মাস পূর্বে মায়ের সাথে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেব রামপুর গ্রামের নানা বাড়িতে মা নাদিয়ার সাথে বেড়াতে যায় শিশু হাফিজুল। ৩০ জুন সাহেব রামপুর থেকে অপরিচিত নম্বরে কল যায় শরীয়তপুরে অবস্থিত পিতা হানিফ শিকারীর মোবাইলে। তখন জানতে পারেন শিশু হাফিজুল পাশর্^বর্তী নদীতে তলিয়ে গেছেন। শ^শুর পরিবার বা স্ত্রী নাদিয়ার মোবাইল থেকে কল না পেয়ে সন্দেহের সুত্রপাত হয় হানিফ শিকারীর। তারাহুরো করে শ^শুর বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায় তারা অন্যত্র আত্মিয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। সেই আত্মিয়ের বাড়িতে শিশু হাফিজুর পানিতে ডুবে মারা যায়। এখন হাফিজুলের পিতা সহ পরিবারের অভিযোগ মা নাদিয়া স্বামীর সংসার করবেনা বলে সন্তানকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে।
হাফিজুরের পিতা হানিফ শিকারী জানায়, অনেক দিন পূর্বে তার স্ত্রী বাপের বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখান থেকে ফোন কলে জানায়, সে আমার সংসার করবে না। আমার কাছে দেন মোহরের বকেয়া টাকা দাবী করে। মুরব্বিদের নিয়ে এসে দেন মোহরের অবশিষ্ট টাকা নিতে বলি। আরো বলি ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে। তারা আমার ছেলেকে মেরে লাশ ফেরৎ দিয়েছে। আমি এই হত্যা কান্ডের সঠিক বিচার দাবী করছি।
এই বিষয়ে নিহতের চাচা মো. রাজু শিকারী জানায়, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীতে নেমে তার ভাতিজাকে খুজেছেন। তখনও পাওয়া যায়নি। পরের দিন মরদেহ ভাটির দিকে যেতে পারে কিন্তু উজানে কিভাবে পায়। আমরা ধারনা করছি শিশুটিকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। সঠিক ভাবে তদন্ত করা হলে হত্যার রহস্য উৎঘাটিত হবে।
নিহত শিশুর নানা বাদল খান বলেন, আমার নাতি পানিতে ডুবে মারা গেছে। এক্ষেত্রে কোন সন্দেহ নেই। তবে তার বাবা যাই দাবি করুক না কেন তা সত্য না। কোন মা তার সন্তানকে হত্যা করতে পারেনা। তারা পরিকল্পিত ভাবে আমাকে ও আমার মেয়েকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ তদন্ত করে যা সত্যতা পাবে তা আমরা মেনে নিব।
কালকিনি থানা অফিসার ইনচার্জ জহিরুল আলম জানায়, প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি হত্যা মনে হয় না। তবুও একটি অপমৃত্যু মামলা নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তখন হত্যা প্রমানিত হলে হত্যা মামলা হবে।