চারদিকে পদ্মা নদী, মাঝে ছোট-বড় ১০টি চর। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌযান। শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৭০-৮০ হাজার মানুষের বসবাস এসব চরে।
মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা দিতে ২০১৯ সালে দুটি উপজেলায় একটি করে নৌ এ্যাম্বুলেন্স দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু চালক ও জ্বালানি তেলের খরচ না দেওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স দুটি কখনোই চালু করা হয়নি। ৫০ লাখ টাকা দামের এ্যাম্বুলেন্স দুটির একটির হদিস নেই। আরেকটি নষ্ট হয়ে নদীতে ডুবে আছে। স্পিডবোটের মধ্যে স্থাপন করা ওই নৌ এ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার, শয্যা ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে চরআত্রা, নওপাড়া সম্পূর্ণ ও ঘড়িসার ইউনিয়নের আংশিক এবং জাজিরার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে পূর্ব নাওডোবা, পালেরচর ও কুন্ডেরচর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম পদ্মা নদীর মাঝে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নড়িয়ার এ্যাম্বুলেন্সটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চার কিলোমিটার দূরে লঞ্চঘাট এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর তীরে পানিতে ডুবে আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, আমি এ হাসপাতালে আসার আগেই সেটি নষ্ট হয়ে আছে। শুনেছি চালক ও তেল সরবরাহ না থাকায় ওটি কখনোই চালু করা যায়নি।
জাজিরার এ্যাম্বুলেন্সটি সম্পর্কে জানা যায়, এটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের মঙ্গলমাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে রাখা ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশা বলেন, নৌ এ্যাম্বুলেন্সটি সম্ভবত চুরি হয়ে গেছে। চুরি হয়েছে এমন জানিয়ে চিঠি দিয়ে বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চরে অবস্থিত কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গত দেড় বছরে সন্তান সম্ভবা তিন নারী দ্রুত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মারা যান। তাঁরা হলেন, শাহিদা আক্তার (২৫), মিতু আক্তার (২২) ও নুরুন্নাহার (২৭)। ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহেদ আলী মল্লিক বলেন, আমার চাচাতো বোন মিতুর সন্তান প্রসব করার নির্ধারিত তারিখের আগেই ব্যথা ওঠে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারিনি। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। মিতুর মতো গত দেড় বছরে আরও দুজন মারা গেছে।
কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বেপারী বলেন, আমার ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন চরে। ৫-৬ বছর আগে শুনেছিলাম চরের মানুষের জন্য নৌ এ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কখনো তা চোখে দেখিনি। আমরা চরের মানুষেরা জীবন দিয়ে তার মূল্য দিচ্ছি।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, দুটি নৌ এ্যাম্বুলেন্স আছে এমন তথ্য জানি। তবে সেগুলো কোথায় কি অবস্থায় আছে তা বলতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়, তা হলে সংস্কার করে সচল করা হবে।