Wednesday, 19th August, 2026

‘আমিন’ লাখো মুসল্লির ধ্বনিতে শেষ হলো চরমোনাইয়ের মাহফিল

গত ১ এপ্রিল (বুধবার) বাদ জোহর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের সূচনা হয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে এ বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

সমাপনী বয়ানে চরমোনাই পীর বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গিয়ে নাফরমানির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের কথা স্মরণ করে আল্লাহভীতি অর্জনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অন্তরে আল্লাহভীতি না থাকলে কোনো আলেম, মুফতি বা পীরের বাহ্যিক পরিচয়ও প্রকৃত মর্যাদা দিতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, অহংকার, আত্মম্ভরিতা ও হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা জরুরি। পাশাপাশি রাগ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত জিকির, গিবত থেকে দূরে থাকা, পরিবারে ইসলামী শিক্ষা ও পর্দার চর্চা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আল্লাহভীরুদের লেখা বই অধ্যয়ন, নিয়মিত হালকায়ে জিকির ও তালিমে অংশগ্রহণ এবং বিশুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করেন।

মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। আখেরি মুনাজাতে অংশগ্রহণকারী প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, ওলামায়ে কেরাম ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান।

মুনাজাতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা হয়। এর মধ্যে ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান ও লেবাননের নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়।
এছাড়া গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত চরমোনাই মুরিদদের মধ্যে মৃত্যুবরণকারী প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। এবারের মাহফিলে মূল সাতটি নির্ধারিত বয়ানের পাশাপাশি দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন। মাহফিল চলাকালীন সময় চরমোনাই অস্থায়ী হাসপাতালে প্রায় দুই হাজারের বেশি মুসল্লিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এবারের মাহফিলে দুইজন অমুসলিম চরমোনাই পীরের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

দুর্ঘটনাবশত অংশ নিতে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুই মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। তারা হলেন নরসিংদীর মাধবদীর কাটালিয়া এলাকার এমদাদুল হাসান (৮৬) এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মো. তালহা (২২)। জানাজা শেষে তাদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০৯ নভেম্বর ২০২৫

সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

www.janadristi.com