Thursday, 22nd October, 2026

শরীয়তপুরে অর্থনৈতিক শুমারির জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ক সেমিনার

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর চুড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন (ন্যাশনাল রিপোর্ট) আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (১৫ জুন) শরীয়তপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উদ্যোগে শরীয়তপুর জেলার অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর চুড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শরীয়তপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ ফয়সাল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রত্যয় হাসান এর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওয়াহিদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাদিয়া জেরিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলোরা ইয়াসমিন, এসডিএসের প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা বাসস প্রতিনিধি মজিবুর রহমান, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবে সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন সরদার।
সেমিনারে জানানো হয় ‘সময়ের বিবর্তনে দেশের কৃষি-বহির্ভূত অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রস্তুত এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০২৪ সালে ম্যাপিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করে।
উপস্থাপিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর জেলায় বর্তমানে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৮৬ হাজার ২৯৮টি। এর মধ্যে স্থায়ী ইউনিট ৪৫ হাজার ৮৯১টি, অস্থায়ী ইউনিট ৩ হাজার ২৭৮টি এবং অর্থনৈতিক খানা ৩৭ হাজার ১২৯টি। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৫৫৩টি। অর্থাৎ গত এক দশকে জেলায় অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৫২.৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ সকল অর্থনৈতিক ইউনিটে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৭ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে স্থায়ী কর্মসংস্থান ১ লাখ ৮ হাজার ১৪৯ জন, অস্থায়ী কর্মসংস্থান ৩ হাজার ৯৬২ জন এবং অর্থনৈতিক খানাভিত্তিক কর্মসংস্থান ৪৪ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৩ সালের শুমারিতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ২৮৫ জন। ফলে গত এক দশকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৯.৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় জেলার মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সিংহভাগ বর্তমানে সেবা খাতনির্ভর। মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯০.০২ শতাংশ সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শিল্প খাতের অংশ ৯.৯৮ শতাংশ। সেবা খাতের মধ্যে ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান ও মোটরসাইকেল মেরামত’ উপখাত সর্বোচ্চ ৪১.৮২ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর তথ্য দেশের পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যবসা ও শিল্প-প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।