Wednesday, 19th August, 2026

ইরানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, দাবি আরাগচির

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ কারণে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এখন আর সাধারণ প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ কিংবা যুদ্ধ—উভয় পরিস্থিতির জন্যই ইরান প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানী তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আরাগচি বলেন, ইরানে যা ঘটছে, তা আর বিক্ষোভ নয়। বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসীরা নাশকতা চালাচ্ছে, সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করছে। তিনি দাবি করেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেশের বাইরে থেকে দেওয়া হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত একাধিক অডিও ক্লিপ সরকারের হাতে এসেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার ও সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা তৎপর রয়েছে। সন্ত্রাসীরা কখনোই জয়ী হতে পারবে না। সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। বিক্ষোভে বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে আরাগচি বলেন, ট্রাম্পের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বিদেশি সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ হোক কিংবা সংলাপ—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যত যাচ্ছে, বিক্ষোভের তীব্রতাও তত বাড়ছে। আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫।

মুদ্রার এই দুরবস্থার প্রভাবে দেশে চরম মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষ মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ডাকেন। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূচনা হয়।

অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে এবং সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০৯ নভেম্বর ২০২৫

সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

www.janadristi.com