Friday, 23rd October, 2026

সখিপুরের চরভাগায় পূর্বশত্রুতার জেরে হামলায় আহত ২

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় সখিপুরের চরভাগা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের প্রধানিয়া কান্দি গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীর হামলায় ফাহিমা আক্তার (৩০) ও মমতাজ বেগম (৫০) আহত হয়েছে।
আহত ফাহিমা প্রধানিয়া কান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হাওলাদারের স্ত্রী ও মমতাজ বেগম ঐ এলাকার বাসিন্দা মৃত আমানউল্লাহ হাওলাদারের স্ত্রী।
বুধবার বিকাল ৫ টার সময় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সখিপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও আহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, চরভাগা ইউনিয়নের প্রধানিয়া কান্দি গ্রামের আক্কেছ হাওলাদারের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনায় বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। বুধবার তার ছেলে খবির হাওলাদার, খলিল হাওলাদার, বুট্টু হাওলাদার ,জলিল হাওলাদারের সাথে সামান্য মুরগি নিয়ে তর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। এর জেরে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মৃত আমানউল্লাহ হাওলাদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৬০) কে এলো পাথাড়ি মারধর করে ভুট্টু হাওলাদার। পরে শাশুরি কে বাঁচাতে এগিয় আসলে ফাহিমা বেগম (৩০) কে রট, পিলার ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করে তারা। এসময় ফাহিমা বেগমের মাথা ফেটে যাওয়ায় তিনি অচেতন হয়ে পরেন। মমতাজের ছেলে জসিম হাওলাদার তাদেরকে শরীয়তপুর সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছেন।
আহত ফাহিমা ও মমতাজ বেগম বলেন, আমাদের সাথে তাদের পূর্বে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। তাই ঝগড়া করার মত কিছু পায়না তাই তাদের উঠানে আমাদের মুরগী গিয়েছিলো এ জন্য আমার শাশুড়িকে চুলের মুঠি ধরে মাবধর করে। আমি বাধা দেয়ায় আমাকে বুলবুল বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা ভাটিয়ে ফেলে। পরে আমি অচেতন হয়ে পরি। আমি এই হামলার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয় প্রতিবেশী জামাল হাওলাদার বলেন, আমি ঘটনাটি শুনে ছুঁটে আসি, পরে দেখি ফাহিমা ও মমতাজ আহত অবস্থায় পরে আছে। তারপরেও আক্কেস হাওলাদার সহ তার স্বপরিবার বাঁশ ও লাঠিসোটা নিয়ে মারতে আসতেছে। আমি আক্কেছ হাওলাদারকে বলি থামেন অনেক মেরেছেন আর না। এখন এদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তারা পরে সরে যায়। এই ঘটনার সঠিক বিচার হওয়া উচিৎ।
জসিম হাওলাদার বলেন, আমরা পাঁচ ভাই তার মধ্যে চারজন প্রবাসী। আমি একা বাসায় থাকি এ সুযোগে আক্কেছ হাওলাদার সহ তার ছেলেরা মিলে আমার মাকে ও ভাবিকে লাঠিসেটা নিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। পরে ভাবির মাথা ফেটে যায় ও আমার মায়ের বুকে অনেক আঘাত পায়। পরে তাদেরকে শরীয়তপুর সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করি। এ বিষয় আমি বাদি হয়ে সখিপুর থানায় একটি মামলা করি। আমি এই হামলার উপযুক্ত বিচার দাবি করি।
অভিযুক্তদের মধ্যে খলিল হাওলাদারকে পাওয়া গেলে তিনি এবিষয় কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এবিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি মারামারির মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।