Wednesday, 21st October, 2026

কালু দালালের চক্করে পড়ে নি:স্ব একটি পরিবার

দালাল একটি ভয়ঙ্কর শব্দ। কেউ কেউ এই শব্দটিকে গালিও মনে করেন। এমন একটি শব্দের জাতাকলে পিষ্ট হয়ে পথে বসতে যাচ্ছে একটি পরিবার। পরিবারের দাবী কালু লাকরিয়া নামের এক দালাল তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে ৩ বছর ধরে প্রতারনা করছেন। কয়েকবার ভূয়া ভিসা দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে এই টাকাগুলো হাতিয়ে নিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। দালাল একটি খারাপ শব্দ বা গালি তা এই দালালের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্ত দালালের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ইতালি গ্রাম খ্যাত নলতা গ্রামের জামাল লাকরিয়ার ছেলে দালাল কালু লাকরিয়ার মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে একই উপজেলার দিনারা গ্রামের আদম আলী হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার। স্বপ্নের ইতালী প্রবাসে যাওয়ার আবেদন করার জন্য স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নগদ ১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন দালাল কালু। পরবর্তীতে একটি ভূয়া ভিসার কপি দেখিয়ে দালাল কালু লাকরিয়া দুই দফায় তার ফার্মের নামে ব্যাংক হিসাব নম্বরে আরো ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। একাধিক বার ইতালিয়ান দুর্তাবাসেও পাঠায় তাকে। সর্বশেষ বারে দুর্তাবাস বলে দেয় যে ভিসার কপি নিয়ে যাওয়া হয় তার কোন অস্তিত্ব নাই।
ভুক্তভোগী ফারুক হাওলাদার ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানায়, কালু দালাল তাদের নিকটবর্তী নলতা গ্রামের বাসিন্দা। তার কথা বিশ^াস করে এবং তার মাধ্যমে ইতালী যাওয়ার আবেদনের জন্য আত্মীয়দের কাছ থেকে ধারদেনা করে প্রথমে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১ লাখ টাকা দেই। কিছুদিন পরে দালাল কালু জানায় আপনাদের ভিসা এসেছে দ্রুত অবশিষ্ট টাকা সংগ্রহ করেন। তখন পরিবারের সকলের স্বর্ণের জিনিস বন্দক রেখে এবং আত্বীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে তার আলভী এগ্রোফাম নামীয় ব্যাংক হিসাব নম্বরে কৃষি ব্যাংক গোলার বাজার শাখা থেকে ওই বছরের ৮ অক্টোবর ৫ লাখ ও ২২ নভেম্বর আরো ২ লাখ টাকা দেই। সেই থেকে টাকার সুদ বাড়তেছে। কালু লাকরিয়া ফারুককে ইতালিও নেয়না বা টাকাও ফেরৎ দেয় না। ইতোমধ্যে দালাল কালু টাকা ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে শতাধিক বার সময় নিয়েছে অথচ টাকা ফেরৎ দেয়নি।
তারা আরো জানায়, ফারুক দুবাই প্রবাসে ছিল। ইতালির ভিসা এসেছে সংবাদ পেয়ে সে দেশে ফিরে বেকার জীবন যাপন করছেন। ফারুক দম্পত্তির ১টি কন্যা সন্তান রয়েছে। এখন আবার স্ত্রী অন্ত:সত্ত্বা। দিনে দিনে সুদ বাড়ছে। বাড়ছে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দূরত্ব। অবশেষে পথে বসাছাড়া কোন উপায় পাচ্ছেনা পরিবারটি।
এই বিষয়ে দালাল কালু লাকরিয়া জানায়, তিনি ফারুক, সজিব ও ইয়াসিনের কাগজ ইতালি প্রবাসী বাদলের মাধ্যমে জমা হয়েছে। এদের মধ্যে ইয়াসিন ইতালি চলে গেছে। ইতোমধ্যে বাদল ইতালিতে স্ট্রোক করে অসুস্থ্য হয়ে রয়েছে। তবুও আমার চাচাতো ভাই রুবেল লাকরিয়ার মাধ্যমে ফারুক ও সজিবকে জানিয়ে দিয়েছি তাদের টাকা ফেরৎ দিব।