শরীয়তপুর জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র পালং বাজারে পারুল বেগমের কোটি টাকার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বাঘিয়া গ্রাম নিবাসী ওমর ফারুক পাংকুর বিরুদ্ধে। ওমর ফারুক পাংকু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সম্পদাক পদে আছেন বলে জানান অভিযোগকারী।
ওই সম্পত্তির মালিক মোসাঃ পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়ে পালং মডেল থানা, পালং বণিক সমিতি ও শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার।
জমির মালিক পারুল বেগম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলা শহরের ৬০নং পালং মৌজায় ১৩২নং খতিয়ানে এস এ ৬৫২ ও ৬৫৪ নং দাগে এবং বিআরএস ৩৭১৩ নং দাগে ২.৭৫ শতাংশ জায়গা মৃত আব্দুল গনি সিকদারের স্ত্রী পারুল বেগমের। তিনি সন্তোষ চন্দ্র ঘোষের নিকট থেকে ২০০৪ সালে পালং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৯৭ নং দলিল মূলে খরিদ করে জমির মালিক হন। পারুল বেগম সেই জমির ভোগদখলে থেকে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বাঘিয়া এলাকার ইদ্রিস আলী হাওলাদারের ছেলে ওমর ফারুক পাংকু জোরপূর্বক উক্ত জায়গাটি দখল করে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। ওই সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা হবে বলেও দাবী করেন পারুল বেগম।
পারুল বেগমের ছেলে শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ৩৭১৩নং দাগে ওমর ফারুক পাংকুদের কোন জাগয়া নেই। পাশের দাগে তাদের জায়গা আছে। সেখানে তাদের ঘর আছে। তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ১২ফুট লম্বা আর ৭ ফুট চওড়া জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে। পালং থানার ওসি কাজ বন্ধ রাখতে বললেও ওমর ফারুক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জমির মালিকের বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান সিকদার বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৮/১৯ বছর যাবৎ এ জায়গা খরিদ করে ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছি। বর্তমানে আমাদের জায়গা জোর করে দখল করে নি”েছ। আমরা থানা পুলিশসহ বিভিণ্ন¯’ানে ঘুরেও কোন প্রতিকার পা”িছ না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টির সু-বিচার প্রত্যাশা করি।
জমি দখলের বিষয়ে ওমর ফারুক পাংকু বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য তারা এ অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি অন্যের জায়গা দখল করিনি। বরং তারা আমার জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। এ বিষয়ে জানতে হলে পালং থানার ওসি ও সার্কেল এসপি’র সাথে যোগাযোগ করুন।
পালং বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল ছালাম বেপারী বলেন, অভিযোগকারী বিষয়টি আমাদেরকে অবহিত করার পূর্বে পালং থানাকে অবহিত করেছে। প্রথমে থানা বিষয়টি সমাধান করুন। পরবর্তীতে আমরা দখলদার মুক্ত করার চেষ্টা করব যার জমি তাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। আমরা ন্যায়ের পক্ষে থাকব।
শরীয়তপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর বেপারী বলেন, বিষটি নিয়ে আমাদের এমপি মহোদয়ের কাছে আসছিল। আমরা উভয় পক্ষে সমঝোতা করে দিয়েছিলাম। এখন তারা মানছে না।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, আমার কাছে দুই পক্ষ অভিযোগ করেছে। ছাত্রলীগ নেতা দাবি করছে তার জায়গায় সে ঘর তুলছেন। অপর পক্ষ বলছেন ছাত্রলীগ নেতা জোরপূর্বক তাদের জায়গা দখল করে ঘর তুলছেন। আমি উভয়পক্ষকে থানায় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছি।