Friday, 6th November, 2026

ফেনীতে শরীয়তপুরের যুবকদের ত্রাণ তৎপরতা শুরু

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় একটি স্পিডবোট ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ফেনী পৌছে ত্রাণ বিতরণ করছে শরীয়তপুরের একদল উদ্যমী যুবক।
গত শুক্রবার তারা ফেনী পৌছেছেন বলে জানিয়েছেন, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ডুবেছে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বেশ কয়েকটি জেলা। এর মধ্যে ফেনীর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সেখানে বন্যার পানিতে আটকা পড়েছে অসংখ্য মানুষ। ফেনী বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে শরীয়তপুরের বেশ কিছু শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। তারা বন্যার্তদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহে ফান্ড গঠন করেন। পরে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা নিয়ে একটি স্পিডবোট ঠিক করে অন্তত ১০ স্বেচ্ছাসেবী ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এ ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ঔষুধসহ বিভিন্ন জরুরী সামগ্রী স্পিডবোটে করে ফেনীর বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানান তারা।
স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ তুষার বলেন, ফেনীর বন্যাদুর্গতদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। এই অবস্থায় মানুষ হিসেবে ঘরে বসে থাকতে পারি না। তাই তাদের সাহায্যে শরীয়তপুর থেকে ত্রাণসামগ্রী ও একটি স্পিডবোট নিয়ে আমরা ফেনী এসে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করে ত্রাণ বিতরণ করছি। আমাদের এ ছোট প্রচেষ্টায় তাদের কষ্ট যদি কিছুটা কমে তাহলে সেটাই সার্থকতা। সবাই এক সঙ্গে চেষ্টা করলে আমরা এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারব।
সালমান রহমান সিয়াম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, মূলত মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা জেলার মানুষের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করে তা নিয়ে ফেনীর বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়েছি। কিছুটা হলেও তাদের সহায়তা করতে পেরেছি এটাই আমাদের প্রশান্তি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা প্রশংসার যোগ্য। তারুণ্যের এ শক্তিকে ব্যবহার করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। শিক্ষার্থীদের এ প্রচেষ্টা বন্যার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে আশা করছি।