Thursday, 22nd October, 2026

দায়িত্ব পালনে মানসিকতা থাকাই যথেষ্ট বর্ণ-গোত্র-ধর্মের বিবেধ না

১০ অক্টোবর রোববার সকাল থেকে একটি মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকে পড়েছিল। দুই ঘন্টা অতিবাহিত হলেও মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করেনি কেউ। কোন একজন ব্যক্তি নিজ দায়িত্ব থেকে বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে পৌঁছে দেয়। দেরী না করে নির্বাহী অফিসার মনদীপ ঘরাই লাশের পাশে ছুঁটে যান। খুঁজতে চেষ্টা করেন মৃত্যু ব্যক্তির পরিচয়। এক পর্যায়ে পরিচয় পেয়ে পরিবারকে সংবাদ পাঠান তিনি। পরিচয়হীন মৃত ব্যক্তির পরিচয় খুঁজে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন তিনি।
মনদীপ ঘরাই তার ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘মাঝ দুপুর। একটা অনুষ্ঠানে ছিলাম। ম্যাসেঞ্জারে জানতে পারলাম দু’ঘন্টা ধরে একটা অজ্ঞাতপরিচয় লাশ পড়ে আছে হাসপাতালের গেটে। সাথে সাথে ছুটে গেছি একটাই আশায়; যদি পরিচয় বের করা যায়। পালং থানার ওসি আখতার সাহেব, এসআই রফিক, সাংবাদিকবৃন্দ সহ সবাই মিলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বের করেছি মৃত মানুষটির পরিচয়। উনি বরিশালের মুলাদির নুরুল ইসলাম কুট্টি।
বরিশাল থেকে ঢাকায় ছেলের বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি। পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে সহযাত্রীরা তাকে হাসপাতালের গেটে রেখে ভয়ে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ততক্ষণে তাঁর দেহে আর প্রাণ ছিলো না।
ইতোমধ্যে তার সন্তানদের খবর দেয়া হয়েছে। পিতার মরদেহ গ্রহণ করে দাফন করবে তারা। এটাই তো হবার ছিলো।
অথচ, আশংকা সৃষ্টি হয়েছিলো বেওয়ারিশ হিসেবে সত্তোরোর্ধ্ব মানুষটির শেষকৃত্যের। এতটুকুই ভালো লাগার: শেষ পরিচয়টুকু হারাতে দেই নি; শেষ যাত্রায়।
ফেইসবুকে মনদীপ ঘরাই এর এই লেখা ঘিরে ২৯১ জন মন্তব্য করেছেন। লাইক করেছেন হাজারেরও বেশী মানুষ। তার পূর্বের কর্মস্থলের অনেকেই মন্তব্য করেছেন। নির্বাহী অফিসার মনদীপ ঘরাই যা করেছেন আমাদের সকলের তাই করা উচিৎ। মানুষ মানুষের জন্য এতটুকু করবে সেটাই স্বাভাবিক। আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে এই মনদীপ ঘরাইকে অনুস্মরণ করব। মনদীপ ঘরাইয়ের মানবতা বিদ্যাপিঠের ছাত্র হব সকলে।