বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করেছে রবিন হোসেন মাঝি নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। একধিকবার এমন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যুবকের ঢাকার ভাড়া বাসাসহ যুবকের বসত বাড়িতে। এক পর্যায়ে পরিবারের কুপরামর্শে ওই যুবক বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এই বিষয়ে ধর্ষণের শিকার ওই নারী শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি পালং মডেল থানা পুলিশ তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনার মামলাটি আমলে গ্রহণ করে আসামীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা ইস্যু করেন। সংবাদ পেয়ে আসামী পালিয়ে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন হাজত বাসের পরে বাদীনিকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাদিনির সম্মতিতে জামিন পায় আসামী। জামিন পরবর্তী আসামী প্রতিশ্রুতি ভংগ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। বাদিনীকে মারধর সহ হত্যার হুমকি দেওয়া হয় আসামী, তার পরিবার ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে।
গত ১৩ মে ট্রাইব্যুনালে হাজিরা শেষে পূর্ব চরোসুন্দি গ্রামের ইউসুফ খার প্ররোচনায় আসামী রবিন হোসেন মাঝি, তার পিতা শহীদুল মাঝি সহ অন্যান্যরা বাদীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়।
এই বিষয়ে মামলার বাদী বলেন, রবিন পূর্ব চরোসুন্দি গ্রামের শহিদুল মাঝির ছেলে। রবিন ঢাকায় পাটুয়াটুলির ভাড়া বাসায় থাকাকালে বাদিনীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অনেক বার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার পুর্ব চরোসুন্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেও একই শর্তে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে পরিবারের কু-প্ররোচনায় বিয়ে করতে অস্বীকার করে। তারপর থেকে বাদী এই মামলা করে।
বাদী আরো জানায়, পুলিশ রবিনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে আদালতে দেয়। আদালত রবিনকে হাজতে পাঠায়। রবিনের জামিন না হওয়ায় স্থানীয় গন্যমান্যদের নিয়ে রবিনের পরিবার বাদীর কাছে যায়। বাদীকে পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলে আপোষের শর্তে রবিনকে জামিন করাতে। বাদী তাদের কথা বিশ^াস করে আপোষের শর্তে রবিনকে জামিন করায়। তারপর থেকে আসামী ও তার পরিবার বাদীকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে আসছে। এই বিষয়ে বাদী পালং থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় হারুন সরদারের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন সরদার জানায়, বাদী যে সকল অভিযোগ উপস্থাপন করেছে তা সত্য। বাদীকে এক্ষেত্রে ঠকানো হয়েছে। স্থানীয় ভাবে একটা সিদ্ধান্ত হয় তাদের দুজনকে বিয়ে দিবে। বিয়ের দিন সকালে রবিন পালিয়ে যায়। তার পরে বাদী মামলা করে।
ঘটনার সত্যতা জানার জন্য আসামীর পূর্ব চরোসুন্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আসামী রবিন ও তার পিতা শহীদুল মাঝিকে পাওয়া যায়নি। তবে রবিনের পরিবার তোফাজ্জলের পিতা হারুন সরদারকে ডেকে নিয়ে আসেন। সেখানে হারুন সরদার জানায়, মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপোষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আসামী পক্ষের উকিলের কাছে জমা করা হয়েছে। তবে আসামীরা বাদীর সাথে কোন অসৌজন্য আচরণ বা হুমকি দিয়েছে কিনা তা তার জা