Friday, 30th October, 2026

শরীয়তপুর জেলার চাহিদা মিটিয়ে কুরবানির পশু যাবে অন্য জেলায়

শরীয়তপুর জেলায় কুরবানীর জন্য ৪৫ হাজার পশু উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে ছোট-বড় খামারী ও স্থানীয় কৃষকরা। জেলায় ৩৭-৩৮ হাজার কুরবানীর পশুর চাহিদা রয়েছে। অতিরিক্ত পশু রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারীরা। এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রানি সম্পদ দপ্তর। ইতোমধ্যে খামার থেকেই কুরবানীর জন্য পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।
কালো মানিক নামে ১৪০০ কেজি ওজনের একটি ষাড় কুরবানীর জন্য প্রস্তুত করেছেন নড়িয়া উপজেলার নশাসন ঢালী কান্দি গ্রামের মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ জিহাদী। তিনি কালো মানিকের মূল্য হাকছেন ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্লাক ডায়মন্ড নামে ৯০০ কেজি ওজনের অপর আরও একটি ষাড় কুরবানীর বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন সদর উপজেলার পালং এলাকার রহমান ডেইরী ফার্ম। ব্লাক ডায়মন্ডের দাম হাকছেন ৮ লাখ টাকা।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান জানায়, দুই বছর পূর্বে ১ বছরের কম বয়সী এই ষাড় বাছুরটি তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন। সেই থেকে প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে ষাড়টিকে লালন পালন করছেন।
রহমান ডেইরী ফার্মে রয়েছে শতাধিক ছোট-বড় গাভী ও ষাড়। এই কুরবানীর জন্য তিনি ৪০টি ষাড় প্রস্তুত করেছেন। এছাড়াও তার ফার্ম থেকে প্রতিদিন ৩০০ কেজি দুধ উপাদন হয়ে থাকে। বাছুর বড় করেই তিনি কুরবানীর জন্য প্রস্তুত করেন। তিনিও সবুজ ঘাস, ভূষি ও খড়কুটা খাইয়ে পশু পালন করেন। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত হওয়ায় পশুর চিকিৎসা পেয়ে থাকেন বিনা মূল্যে।
ক্রেতারা জানায়, শরীয়তপুরের খামারগুলোতে প্রকৃতিক খাদ্য খাইয়ে পশু পালন করা হয়। তাই তারা খামার থেকে পছন্দ করে পশু কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ব্লাক ডায়মন্ড ও কালো মানিক নামের ষাড় দু্েটাই বেশ বড়।
রহমান ডেইরী ফার্মের পরিচালক জানায়, তাদের ফার্মে শতাধিক গরুর মধে ষাড়, বাছুর ও গাভী রয়েছে। তারা কৃত্রিম পশু খাদ্য বর্জণ করে শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করেন।
জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জেলায় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১০ হাজার পশু অন্যান্য জেলায় বিক্রি করা সম্ভব হবে। খামারীদের সকল প্রকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কুরবানীর বাজার মনিটরিং টিম গঠন করে তারা খামারীদের সহায়তা প্রদান করে আসছেন।