Thursday, 5th November, 2026

ডামুড্যায় তীব্র শীতে গরম কাপড় কিনতে ফুটপাতে নিম্ন আয়ের মানুষের ভীড়

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায়ও বেরেছে শীতের তীব্রতা। ভোর থেকে সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় দিনের বেলায়ও শীতের তীব্রতা বিরাজ করছে। ফলে গত কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিমাত্রায় শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। তারা শীত নিবারণের জন্য ভিড় করছেন রাস্তার পাশের ভ্রাম্যমাণ গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে।
রবিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার কোথাও মিলেনি সূর্যের আলো। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকেই ভারী কুয়াশা পড়ার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার পর ও ভোরের দিকে এর তীব্রতা আরও বাড়ে। ভোর থেকে সূর্য না ওঠার কারণে বেলা বাড়লেও তাপমাত্রার তেমন তারতম্য ঘটে না। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষজন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ায় নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ শীত নিবারণের জন্য ভিড় করছেন রাস্তার পাশের ভ্রাম্যমাণ গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে।
রবিবার ডামুড্যা বাজারে গরম কাপড় কিনতে আসা আব্দুর রব, জোসনা বেগম, মিনু বেগম সহ কয়েকজন জানান, বেশি দাম দিয়ে গরম কাপড় কেনার তৌফিক নেই তাদের। তাই ফুটপাত থেকে গরম কাপড় কিনতে এসেছে। পুরোনো কাপড়ের দামও বেশি। নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য নামমাত্র কিছু গরম কাপড় কেনার চেষ্টা করছেন তারা।
গরম কাপড় কিনতে আসা আরেক ক্রেতা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যার চরাঞ্চলের বিধবা হনুফা বিবি জানান, গত কয়দিনের শীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খেটেখুটে যা পাই তাতে সংসার চালাতেই হিমশিম খাই। এর ওপর শীতের কাপড় কেনা তার জন্য খুবই কষ্টকর। তবু শীত সইতে না পেরে শেষমেশ ফুটপাত থেকে গরম কাপড় কিনতে এসেছেন।
ফুটপাতে গরম কাপড়ের বিক্রেতা আলমগীর গাজি বলেন, শীত বাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে গরম কাপড়ের বিক্রি অনেক বেড়েছে। আমি প্রতিটি বাজার ও অনেক মোড়ে গরম কাপড় বিক্রি করি। এ বছর তেমন গরম কাপড় বিক্রি না হলেও এ কয়দিন বিক্রি বেড়েছে।