করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে কার্তিকপুরের মৃৎশিল্প পণ্যের রপ্তানি। অর্ডার বাতিল ও নতুন কার্যাদেশ না পাওয়ায় কার্তিকপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত কুমার বা পালরা এ পেশা নিয়ে বেশ চিন্তিত।
পালদের অভিযোগে জানাযায়, মৃৎশিল্পের জন্য এক সময় শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুরের সুনাম ছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় বর্তমানে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কার্তিকপুর গ্রামের পালপাড়ার মৃৎশিল্প বিপন্ন। স্বাধীনতার পর পরই ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এই শিল্প। প্লাস্টিক, এলমোনিয়াম বা স্টীল পণ্যের প্রভাবে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মৃৎশিল্পীরা মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাসন-কোসন, ঢাকনা, কলসি, ছোট বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী, পেয়ালাসহ প্রভৃতি তৈরী বন্ধ হয়ে গেছে অনেক পূর্বে।
তাই বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত পালরা এ পেশাকে ধরে রাখার জন্য সৌখিন পণ্য তৈরী শুরু করে। যা কারিতাস, আড়ং, হ্যান্ডিক্রাপস্ এর মতো বিভিন্ন বায়ারের মাধ্যমে ইউরোপ আমেরিকায় রপ্তানি করে এ শিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে করোনার পরে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তাদের ভাগ্যাকাশে নেমে এসেছে অমানিশার অন্ধকার। চলতি অর্ডার বাতিল ও নতুন অর্ডার না পাওয়ায় এ শিল্পের সাথে জড়িতদের কপালে এখন চিন্তার ভাজ। এ গ্রামের পালবাড়ির মৃৎশিল্পীরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী বাপ-দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের প্যাটেন জালিয়াতি করে কম মূল্যে অন্যদের বিরুদ্ধে পণ্য সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে।
সৌখিন পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানি কারক রঙ্গদীপ পাল জানান, অনেক কষ্টে আমাদের পৈত্রিক পেশা মৃৎ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছিলাম। করোনার ধাক্কা খেয়েছি, বর্তমানে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে আমাদের সকল অর্ডার বন্ধ। কিছু অসাধু মিলে আমাদের প্যাটেন জালিয়াতি করে কম দামে পণ্য সরবরাহ করায় আমাদের অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের বিভিন্ন গোডাউনে স্তুপ হয়ে পরে আছে।
ডিজাইনার স্বপন পাল বলেন, বর্তমানে আমাদের কার্তিকপুরের মৃৎশিল্পের অবস্থা ভয়াবহ। আমাদের ডিজাইন ও প্যাটেন করতে অনেক খরচ। অথচ আমাদের কিছু অসাধু কর্মচারী ডিজাইন ও প্যাটেন জাল করে কম মূল্যে পণ্য সর্বরাহ করছে। আমরা বায়ারকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
শ্রমিক আলী হোসেন বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি জিনিসপত্রের অর্ডার বন্ধ হওয়ায় এখন ধীরে ধীরে এই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা বেকার হয়ে যাচ্ছি। ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি সামগ্রী বিলুপ্তির পথ থেকে রক্ষার জন্য সরকারি-বেসরকারি, এনজিওসহ সকল দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বিপ্লব সিকদার বলেন, আমার ইউনিয়নে এমন কি আমার গ্রামেই হাজার বছর ধরে বংশ পরম পরায় এ শিল্পকে পালেরা ধরে রেখেছে। তাদের বর্তমান সমস্যার বিষয়টি আমার জানা নেই। মৃৎশিল্পের উন্নয়নে আমার পক্ষ থেকে সম্ভব সবকিছু করতে আমি প্রস্তুত আছি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমার উপজেলার কার্তিকপুরের মৃৎশিল্পে বিশ^ ব্যাপি কদর রয়েছে। তাদের বিদেশের অর্ডার বন্ধের বিষটি সম্পর্কে আমি জানিনা। আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে তাদের সরকারি কোন সহায়তার প্রয়োজন হলে তা করবো।