জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৪ এ শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮ নং চর সেনসাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাবারক হোসেন। তিনি এর পূর্বে ২০১৭ ও ২০২৩ সালে ভেদরগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি ব্যাংকের চাকুরীর মাধ্যমে সরকারি কর্মসংস্থান ব্যাংকের চাকুরী দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। মানসম্মত শিক্ষা ও আদর্শ শিক্ষা হবার বাসনায় সে চাকুরী ছেরে ২০০৬ সালে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন। তিনি ভেদরগঞ্জ উপজেলার ২৬ নং মনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এর পরে ২০০৯ সালে বর্তমান বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, করোনাকালীণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঠদান, অনলাইন পাঠদান ‘ঘরে বসে শিখি’ প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কাজ করেন। তিনি করোনাকালীন রেডিও টেলিভিশন ও অনলাইনে পাঠদানের জন্য ঢাকা পিটিআইএ সাক্ষাৎকার দেন ও সারা বাংলাদেশের বাছাইকৃত শিক্ষকদের ২৭ জনের একজন নির্বাচিত হন। পরে বিসিডিএম, সাভার স্ক্রীপ্ট রাইটিং এ পর পর ২ বার কাজ করেন। এছাড়াও তিনি ২০২১ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে, ব্যবস্থাপনায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের ৯৮ দিনের টিএমটিই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি এম.কম সিইনএড ও বিএড পাশ। তিনি আইসিটি বিষয়েও ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক রামচন্দ্র দাস এর উপস্থিতিতে নিজ বিদ্যালয় ও অন্যান্য বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০০ হাজার মা অভিভাবদের নিয়ে মা সমাবেশ-এর আয়োজন করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমানেও সে নিয়মিত হোম ভিজিট, উঠান বৈঠক, মা সমাবেশ/অভিভাবক সমাবেশ করেন। ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে শ্রেণি পাঠদান করেন। নিয়মিত শিক্ষকদের নিয়ে স্টাফ মিটিং করেন। তিনি বিদ্যালয়ের স্কাউটিং জোড়দার করেন এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন করেন ও নিয়মিত সভা করেন। তার বিদ্যালয়ে একঝাঁক মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক প্যানেল রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মাঝে মধুর সম্পর্ক রয়েছে। বিদ্যালয়ে মোট প্রাথমিক বৃত্তি ১২৪ টি। বর্তমান প্রধান শিক্ষকের আমলে ৪৩টি। তার যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যালয়টির মনোরম পরিবেশ ও সুবিশাল মাঠ রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি ও পিটিএ কমিটির সাথেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি জাতীয় সকল দিবস ও বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেন এবং শিক্ষা সফরের আয়োজন করেন।