Sunday, 8th November, 2026

এগিয়ে যাচ্ছে মোংলা বন্দর ছয় মাসে আয় ২১০ কোটি টাকা

নতুন বছরের শুরু থেকে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলায় বিদেশি জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে আমদানি রপ্তানি বেড়েছে। দেশের মেগা প্রকল্পের মালামাল নিয়ে প্রতি সপ্তাহে বন্দরে ভিড়ছে বড় বড় বাণিজ্যিক জাহাজ। এছাড়াও অন্যান্য বছরের তুলনায় মোংলা বন্দর দিয়ে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে। ২৪ ঘন্টাই কর্মমূখর থাকছে পুরো বন্দর এলাকা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে মোংলা বন্দরে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১০ জানুয়ারি বন্দর জেটিতে দুইটি কন্টেইনার জাহাজ, রুপপুর পাওয়ার প্লান্টের মালামাল নিয়ে এবং বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ১৮ জাহাজ অবস্থান করছে।
৭.৫০ মিটার গভীরতা এম ভি পাকান্ডা এন্টিগুয়া ও বারমুডা পতাকাবাহী ১৪২.৭০ মিটার দৈর্ঘ্যেও কন্টেইনার জাহাজ পিপি জেটি নং-৭ এ আগমন করেছে। জাহাজটিতে ১৯০ টিইইউজ কন্টেইনার আসছে। মার্কস ঢাকা নামে আরেকটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ পিপি জেটি নং-৮ এ আসবে ২০৭ টিউজ নিয়ে। জাহাজটি পানামা পতাকাবাহী ১৮৬ মিটার বিশাল দৈর্ঘ্য ও গভীরতা ৭.১০ মিটার। রাশিয়ান পতাকাবাহী এম ভি মেলিনা জাহাজটি রুপপুর পাওয়ার প্লান্ট এর জেনারেল কার্গো (মেশিনারী) নিয়ে বন্দরের ৯ নং জেটিতে অবস্থান করছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মোংলা বন্দরে ২৮ টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন করে আজ পোর্ট লিমিট এর মধ্যে ১৮ টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। বর্তমানে পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত ১৮ টি বাণিজ্যিক জাহাজসমুহে আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়লা, সার (জিপসাম, ড্যাপ ফার্টিলাইজার, টিএসপি, এমওপি), ক্লিংকার, এলপিজি, কন্টেইনার পরিবাহী, পাথরের জাহাজ রয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে ৪১৩ টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন করে। ১০ হাজার ৩৮৬ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়, গাড়ী বহনকারী ১০ টি জাহাজের মাধ্যমে ৫ হাজার ৬৩৭ টি গাড়ি আমদানি হয়। এ সময়ে বন্দর দিয়ে ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৭১ মে.টন আমদানি-রপ্তানি হয় এবং ২১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হয়েছে।
২০২২-২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে ২.৩০%, কার্গো ৯.৭২%, কন্টেইনার ১৬.৭৮% এবং গাড়ির ক্ষেত্রে ১৩% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।