মানব পাচারকারী রাশেদ খান সহ অন্যান্য মানব পাচারকারীদের বিচারের দাবীতে শরীয়তপুর জেলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে আমরণ অনশনে বসেছে ভুক্তভোগী ২৪ পরিবার। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে নিখোঁজদের পরিবার অনশনে বসেছে। স্বজনদের ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তারা অনশনরত থাকবে বলে জানিয়েছে।
অনশনকারীরা জানায়, ২৪ পরিবারের ২৪ জন স্বজন মানব পাচারকারী রাসেদ, চুন্নু, বাবলু খান, রাসেদ খান, আসিক খান, হাসিনা ও সুমা বেগমদের ফাঁদে পড়েছে। ১ বছরের বেশী সময় ধরে তাদের কোন খোঁজ-খবর নাই। মানব পাচারকারী এই চক্রের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই নিখোঁজদের খোঁজ মিলবে বলে দাবী করেছেন অনশনরতরা।
মানব পাচারকারী মামলার বাদী আফরোজা বেগম জানায়, তার ভাই আতিকুর রহমান সৌদি আরব ছিলেন। আশিক খানের সাথে তার ভাই পড়ত। সেই সুবাদে আশিক তার ভাইকে ইতালী নেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনে। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী তার ভাইকে লিবিয়া নেয়। সেই থেকে তার ভাই নিখোঁজ। তার ভাই কোথায় আছে আসামীরা জানে। আসামীদেও গ্রেফতার করলেই তার ভাইকে ফিরে পাবেন বলে দাবী করেন।
মামলার আরেক বাদী সদর উপজেলার তুলাতলা গ্রামের সেলিম জমদার জানায়, তার ছেলে রাসেদুল ইসলাম লিবিয়ায় ছিল। গত বছরের ২২ মার্চের আসামীরা রাসেদুলকে লিবিয়া থেকে ইতালী নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। সেই থেকে রাসেদুলের আর কোন খোঁজ নাই। আসামীরা জানে রাসেদুল কোথায় আছে। তাই আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে অনশনে বসেছি। আমাদের স্বজনদের ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো।
অনশনরত প্রত্যেক পরিবারের একই দাবী স্বজনকে ফিরে পাওয়া। অন্যথায় অনশনরত অবস্থায় মৃত্যুও কোন ভয় নেই তাদের।