শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারধর করার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্যোগে রোববার (১৭ মে) সকালে শরীয়তপুর-মাদারীপুর সড়কে সদর হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। শরীয়তপুর জেলায় কর্মরত সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়ের করা মামলার সকল আসামিকে গ্রেফতারের দাবী জানানো হয়।
চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একজন হৃদরোগের রোগির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্বজনেরা শুক্রবার গভীর রাতে হাসাপাতালের জরুরী বিভাগে ভাংচুর চালিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারধর করেছেন। আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঐ চিকিৎসককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্তে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামের স্ত্রী খাদিজাতুল খুশবু মুঠোফোনে বলেন, এমন একটি ঘটনার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। আমার স্বামী চিকিৎসক, মানুষের জীবন বাঁচিয়ে সুস্থ রাখাই তার কাজ। তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করার জন্যই বেধড়কভাবে পিটিয়েছে। আমি ঢাকায় ছিলাম, খবর পেয়ে শরীয়তপুর পৌছাই। এরপর তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যাই। ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে। গতকাল তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আজ চিকিৎসক বলেছেন তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি এখন বিপদমুক্ত। আজ একটি সিটি স্ক্যান করা হবে। এরপর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে কিনা।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) নামের এক ব্যক্তি শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বুকে ব্যাথা নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে থাকেন। ওই অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান। এরপর জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের তৃতীয় তলায় রোগির কাছে যেতে দেরি হয়েছে এমন অজুহাতে প্রথমে জরুরী বিভাগে ভাংচুর চালায় মৃত লাল মিয়ার স্বজনেরা। এরপর জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারধর করা হয়। ওই চিকিৎসককে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা অফিস সহায়ক ইস্কান্দার আলী শেখ, আনসার সদস্য সোহেল সরদারকে পিটিয়ে আহত করেন। এছাড়া আনসার সদস্য কামরুল ইসলাম, ইমরান, আব্দুর রাজ্জাক, নার্স মনিরুজ্জামান ও রাজিবকে মারধর করা হয়।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, রোগীর স্বজনেরা অন্যায় ভাবে আমাদের একজন চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করেছেন। আমরা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী জানাচ্ছি। তারা কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকেন সেটা না দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতিও আমাদের অনুরোধ। ওই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এখনো মামলার সকল আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার জন্য দায়ী সকল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হোক। আর চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করারও দাবি জানাই।
সদরের পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার এজারভুক্ত ৬ আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আর হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী ডা. আকরাম এলাহী, ডা. মফিজুর রহমান স্বপন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিতু আক্তার, কর্মরত নার্স, টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য কর্মচারীরা।