Sunday, 25th October, 2026

শরীয়তপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ সম্পন্ন, তিন চাষী পুরস্কৃত

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর মৎস্য চাষে বিশেষ অবদানের জন্য জেলার ৩ চাষীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শুক্রবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান।
জেলা মৎস্য অফিসার প্রণব কুমার কর্মকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাজী শরিফুল ইসলাম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ গোলাম রাসুল। বক্তব্য রাখেন দৈনিক হুংকার এর নির্বাহী সম্পাদক এম. হারুন অর রশীদ, সফল মৎস্য চাষী হাজি ফিরোজ হোসেন খান, গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য চাষী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান, দেশীয় মৎস্য চাষী আঃ রহিম খান।
২০২১-২২ অর্থবছরে কার্পমাছ চাষে জেলা পর্যায়ে শেষ্ঠত্ব অর্জন করেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার হাজি ফিরোজ হোসেন খান, হেচারী মাছের জন্য গোসাইরহাটের আবদুর রহিম খান ও সদর উপজেলার অসীম দত্ত।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই থেকে সংবাদ সম্মেলন র‌্যালি, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলা সদরসহ অপর ৫ উপজেলা সদরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২ এর কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান।
মৎস্য সপ্তাহের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জলাশয়ের মাটি ও পানি পরীক্ষা, মৎস্য চাষীদের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য ছিলো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান বলেন, মাছ বাঙালি জাতির সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অংশ। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যবিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। দেশের প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দেশের মানুষ গড়ে জনপ্রতি প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২.৫৮ গ্রাম মাছ বর্তমানে গ্রহণ করছে।
দেশে উৎপাদিত মোট মাছের পরিমাণ ৪৩.৮৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০০৮-০৯ সালের মোট উৎপাদনের চেয়ে ৬২.৩১ শতাংশের বেশি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য মতে (২০২০) মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বিশ্বে ৩য় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ। দেশ এখন মাছে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই না, উদ্বৃত্তও বটে। এ অর্জন জাতির জন্য গৌরব এবং অহংকারের।