প্রচণ্ড খড়ায় ক্ষেতেই শুকিয়ে মরে যাচ্ছে পাট। সময় পেরিয়ে গেলেও পানির অভাবে পাট কেটে জাগ দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভেদরগঞ্জের চাষিরা।
খালে-বিলে পানি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে এ উপজেলার পাট চাষিরা। বর্ষার ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনী বৃষ্টি না হওয়াসহ বর্ষার পানি খাল-বিলে না উঠায় চরম বিপাকে পরেছে চাষিরা। তাই বাধ্য হয়ে আশপাশের ক্ষুদ্র জলাশয়, ডোবা, পুকুরে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক খরচের চেয়ে বেশি খরচ হওয়াসহ পাটের গুনগত মান কমে যাচ্ছে। এতে করে সোনালী আশ পাটের শুভ্রবর্ণ বদলে কালো রং ধারণ করেছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় পাট উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার হেক্টর জমি। সরকারি সহায়তা ও অনুদান পাওয়ার কারণে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষমাত্রা অতিক্রম করে ৫ হাজার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর এক হাজার ৫৫৪ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল হেক্টর প্রতি ৭.৫ মেট্রিকটন। উৎপাদন হয়েছে ৮.৫ মেট্রিক টন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পানি না থাকায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার নদী, মাছ চাষের পুকুর, খাল, বিলে, কোথাও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারছে না তারা। কোনো উপায় না পেয়ে কৃষকরা পাট কেটে ক্ষেতেই ফেলে রাখেছেন। অনেকে বন্যার পানির আশায় পাট না কেটে রেখে দিচ্ছেন।
আবার কেউ কেউ পর্যাপ্ত পানি না পেয়ে নিচু জায়গায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে জাগ দিচ্ছেন। তবে পাটের ফলন ভালো হলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাটের আঁশ আর সোনালি না থেকে কালো রঙের ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। এতে পাটের বাজারমূল্য অনেক কম হবে বলে আশংকা কৃষকদের।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশির ভাগ জমির পাট কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে মাঠে পানি জমেনি। জমি থেকে নদী বা খালের দূরত্ব অনেক বেশী হওয়ায় শ্রমিক ও মজুরী বেশী লাগছে। অনেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নছিমন ও ভ্যানে বোঝাই করে নদী বা খালে নিয়ে ফেলছে। তবে কিছু কিছু জমির পাট কেটে মাথায় করে খালে, বাড়ির পুকুরে জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। জমি থেকে অনেক দূরে পাট নিয়ে জাগ দেওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নরে কৃষক আলী আহমেদ জানান, এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ খুবি কম, আষাঢ় গেল বৃষ্টিহীন, শ্রাবণেও বৃষ্টির দেখা নেই। তাই আমাদের এলাকায় এখনও কোথাও পর্যাপ্ত পরিমান পানি নেই। বর্ষার পানির আশায় আছি। খালে সামান্য বৃষ্টির পানি জমছে সেখানে পাট জাগে ফেলতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পানির অভাবে পাটের আঁশ ছারানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
উপজেলা পাট অধিদপ্তরের পরিদর্শক ও উপসহকারি পাট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এ বছর পাট অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাট বীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৩ হাজার চাষীকে বিনামূল্যে পাট বীজ ও প্রতি জন চাষীকে ১২ কেজি করে রাসায়নিক সার দিয়েছি। এ ছাড়াও উপজেলার ১৫০ জন চাষিকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। উপজেলায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এবছর পানির অভাবে পাট পচাতে চাষীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা তাদের রিবনরেটিং পদ্ধতি অবলম্বন করার জন্য পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, এ বছর পরিমান মতো বৃষ্টি না হওয়ায় খালে বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। পাট চাষে একটা উপকারিতা আছে, পাটের যে পাতা জমিতে পড়ে সে পাতা পচে জৈব সার তৈরি হয়। ফলে জমির উর্বরতা বেড়ে যায়। যে কোন ফসল করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, জমি থেকে অনেক দূরে বহন করে নিয়ে পাট জাগে ফেলতে হচ্ছে বলে কৃষকদের। এতে পাট উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। পাটের ন্যায্য দাম পেলে চাষীদের লোকশান গুনতে হবেনা।