শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পোড়াগাছা এলাকা থেকে ৬০টি হাতে তৈরি ককটেল বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঐ বোমাগুলো পুলিশের এন্টিটেরিজম ইউনিটের বোমা ডিস্পোজাল দল একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তা নিস্ক্রিয় করেছে।
ওই গ্রামের একটি বাড়ির পরিত্যাক্ত ঘরের মধ্যে ৫টি বালতিতে ওই ককটেল গুলো রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে নড়িয়া থানার পুলিশ ওই ককটেল গুলোর সন্ধান পায়। শরীয়তপুরের কোন একটি স্থানে নাশকতা ঘটানোর জন্য ককটেল বোমাগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল বলে দাবী পুলিশের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে বলেন, শরীয়তপুরের কোন স্থানে নাশকতা ঘটানোর জন্য ককটেল বোমাগুলো আনা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে তথ্য পেয়েছি। বোমাগুলো উৎস খোঁজা হচ্ছে। এ ঘটনার সাথে কারা জরিত তা তদন্ত করছে পুলিশ ও পুলিশের তদন্ত বিভাগ।
নড়িয়া থানা সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের একটি গ্রাম পোড়াগাছা। ওই গ্রামের মিলন মাদবর ওমান প্রবাসি। তার স্ত্রী সন্তান ঢাকায় বসবাস করেন। বাড়ির বসত ঘরগুলো তালাবদ্ধ রাখা হয়। মিলন মাদবরের বাড়ির একটি পরিত্যাক্ত ঘর হতে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ ৫টি বালতিতে ৬০টি ককটেল বোমার সন্ধান পায়।
এরপর নড়িয়া থানার পুলিশ ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে। আর ককটেল বোমা রাখা বালতিগুলোতে বালু ও তুষ দিয়ে তা দুরবর্তিস্থানে রাখা হয়। ককটেলগুলো পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার জন্য ঢাকায় পুলিশের এন্টিটেরিজম ইউনিটকে খবর দেয়া হয়। ওই ইউনিটের বোমা নিস্ক্রিয় দলকে (ডিস্পোজাল ইউনিট) খবর দেয়া হয়। রাত ৯টার দিকে এন্টিটেরিজম ইউনিটের ৭ সদস্যর বোমা নিস্ক্রিয় দল পোড়াগাছা গ্রামে আসে। তারা ককটেলগুলো উদ্ধার করে ওই গ্রাম থেকে দেড় কিলোমিটার দুরে অবস্থিত মহিশখোলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যায়। রাত ২টা হতে ৩টার মধ্যে সেখানে দুই ধাপে ৬০টি ককটেল বোমা নিস্ক্রিয় করা হয়।
৭ সদস্যর বোমা নিস্ক্রিয় দলের নেতৃত্ব দেন এন্টিটেরিজম ইউনিটের বোমা ডিস্পোজাল টিমের সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী। তিনি বলেন, ৬০টি বোমাই ধ্বংস করা হয়েছে। বোমাগুলো হাতে তৈরি এবং এগুলো সম্প্রতি বানানো হয়েছে। প্রতিটি বোমার মধ্যে মার্বেল ও ছোট ছোট পেরেক ছিল। হাত বোমাগুলো ছোট হলেও অনেকটাই শক্তিশালী।
নড়িয়া থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন মোল্যা বলেন, দেশের কয়েকটি জেলায় ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। সেই তালিকায় শরীয়তপুর থাকায় পুলিশবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় আছে। তাই আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পেয়ে তাৎক্ষনিক নাশকতায় ব্যবহারের জন্য আনা ককটেল বোমা উদ্ধার করতে পেরেছি। এই ঘটনায় মামলা করা হবে। আর যারা এ ঘটনায় জরিত তাদের সনাক্ত করার কাজ চলছে।