Saturday, 24th October, 2026

শরীয়তপুর-২ আসনের ৪০টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের আবেদন জামায়াত ইসলামী প্রার্থীর

শরীয়তপুর-২ আসনের ৪০টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। তার পক্ষে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আর বিকাল চারটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রার্থী মাহমুদ হোসেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে ভোট কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণার আবেদন করেছেন জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী।
শরীয়তপুর দুই আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। আর বিএনপি’র প্রার্থী সফিকুর রহমান। ওই দুজনের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানার ১৩৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, বেশকিছু কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে।
নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আবেদনে জামায়াত ইসলামের পক্ষে দাবী করা হয় শরীয়তপুর-২ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, এক ব্যক্তির ভোট অন্য ব্যক্তি দ্বারা প্রদান, বুথে নিদিষ্ট প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করা, বিএনপি’র এজেন্টদের সামনে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল প্রদান এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে নির্বাচনের আগের রাতে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে আজকের মধ্যেই এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের প্রকাশ্যে নিদিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দেখানোর ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, প্রিজাইডিং অফিসারদের অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। জানা যায়, সেনাবাহিনী রাস্তায় টহল দিলেও অনেক ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ না করে স্বল্প সময় অবস্থান করে চলে গেছেন, ফলে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।
৪০টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। বিকাল ৪ টায় তার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মাহমুদ হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, নড়িয়া ও সখিপুর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আমাদের কর্মী সমর্থকদের হেনস্তা করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে আমাদের এজেন্টদের থাকতে দেয়া হয়নি। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সিল মারা হয়েছে, জাল ভোট দেয়া হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের সুনিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে তার সমর্থকরা এ কাজগুলো করেছেন। এ কারণে আমরা ৪০টি নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছি।
বিএনপি’র প্রার্থী শফিকুর রহমান বলেন, শরীয়তপুর-২ নির্বাচনী এলাকার ১৩৬ টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। কোথাও কোন অপৃতিকর ঘটনা ঘটেনি। জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী কোন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছেও কোন অভিযোগ করেননি। ভোট গ্রহণের শেষ মুহূর্তে এসে নিজের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ভোট স্থগিতের হাস্যকর দাবি তুলছেন। যা শরীয়তপুর-২ নির্বাচনী এলাকার মানুষ কখনো মেনে নেবে না।
জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন তা আমি পেয়েছি। ওই আবেদনে যে সকল বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে তেমন কোন ঘটনা নির্বাচনী এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ঘটেনি। যার কারণে ভোট স্থগিত করার সুযোগ তেমন নেই।