শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়াকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শেষে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা সর্বশেষ অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলো অসদাচরণ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ কার্যকর করা হয়।
বিভাগীয় নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সাবেক স্ত্রী শাহানাজের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অনৈতিক সম্পর্ক ও অশ্লীল ইমু চ্যাটিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয় এবং প্রধান শিক্ষককে অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নেন।
তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দেন বলে বিভাগীয় আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁর জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক হয়নি। এরপর তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে এ বিরোধের জেরে গত ২ জুলাই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ ও সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নৈমিত্তিক ছুটিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়।
প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ৫ জুলাই সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁর বরখাস্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচিও পালন করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের একটি অংশ।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পর বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও বিদ্যালয়টির সাম্প্রতিক বিরোধের কারণে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নির্বিঘ্ন করা হোক।