Monday, 26th October, 2026

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে কারচুপি করায় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ, পরীক্ষা বর্জণ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর কাজিয়ারচর ছমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ২০ মার্চ। দায়িত্ব প্রাপ্তির এক দিনের মধ্যে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের জন্য আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের নিকট। প্রধান শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে জাজিরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের জন্য তপসিল ঘোষণার অনুমতি প্রদান করেন। নির্বাচনের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার খায়রুল ইসলামকে প্রিজাইডিং অফিসার করা হয়। তিনি গত ২৪ মার্চ প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত তফসিলের অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবগতির জন্য ২৬ ও ২৭ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমার জন্য ২৮-৩০ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। ৩১ মার্চ সকাল ১০টায় ছিল মনোনয়নপত্র বাছাই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ছিল ২ এপ্রিল পর্যন্ত। সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথ ভাবে শেষ হলে ১৩ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রদান শিক্ষক) জিএম সালাহ উদ্দিন প্রকাশিত তফসিল গোপন রেখে তার পছন্দের ৪ জন অভিভাবক সদস্যকে নির্বাচনী মনোনয়নপত্র ক্রয়ে সহযোগিতা করেন। এই ভাবে ২ এপ্রিল শনিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় প্রধান শিক্ষকের ছলচাতুরি ধরা পরে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাই অভিভাবকদের নির্দেশে শিক্ষার্থীরা মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জণ করে বিদ্যালয় মাঠে খেলাধুলা করছে।
মাঠে খেলাধুলারত শিক্ষার্থীরা জানায়, নির্বাচন সম্পর্কে ক্লাশে, বোর্ডে বা মৌখিক ভাবে কোন প্রচার করা হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষার কথা বলে সকলের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আদায় করছে। উপবৃত্তি প্রাপ্তরাও বেতন ও পরীক্ষার ফিস থেকে রেহাই পায়নি। এই সকল বিষয়ের প্রতিবাদে আজকের গণিত পরীক্ষা সকলে মিলে বর্জণ করেছি।
শিক্ষার্থী অভিভাবকগণ জনায়, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন অবসরে যাওয়ার পরে ১২ দিন হলো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিএম সালাহ উদ্দিন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল গোপন করে তার পছন্দের লোকদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া সমাপ্ত করেছেন। মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই প্রধান শিক্ষকের হাতে বিদ্যালয় নিরাপদ মনে করছি না। আমরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও পুনরায় তফসিল চাই। যাতে যোগ্য লোকেরা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পায়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিএম সালাহ উদ্দিন বলেন, গ্রামে গিয়েতো নির্বাচনের কথা প্রচার করব না। ২৬ মার্চ নোটিশ আকারে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রচার করেছি। এই পর্যন্ত ৪টি পদের জন্য চারজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়ে গেছে। আজ শিক্ষক সমিতির নির্দেশে পরীক্ষা নিচ্ছি। পরীক্ষার ফিস ও বেতন সহ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছি। আজ গণিত পরীক্ষা ছিল। কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
প্রিজাইডিং অফিসর খায়রুল ইসলাম দায়সারা ভাবে বলেন, মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমা দিবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এই পর্যন্ত চারজন সদস্যপদে মনোনয়ন ক্রয় করেছে। এরমধ্যে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তা আমার জানা নাই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, দায়িত্বভার গ্রহণ করার ১ দিনের মধ্যে নির্বাচন চাওয়া সন্দেহের বিষয়। তপসিল বহুল প্রচার নোটিশ বোর্ডে ও শ্রেণি কক্ষে পাঠ করতে হবে। একাডেমিক সুপারভাইজারকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছি। কোন অনিয়ম থাকলে নির্বাচন বাতিল করে পূর্বের ন্যায় এডহক কমিটি দিয়ে বিদ্যালয় চলবে। আর যে পরীক্ষা নিচ্ছে তা শিক্ষক সমিতির অবৈধ প্রক্রিয়া। তবুও যদি টাকা নেওয়ার প্রমান থাকে তাহলে ব্যবস্থা নিব।