Monday, 26th October, 2026

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হাওরের ফসল ও মানুষ বাঁচাতে স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে: পানি সম্পদ উপমন্ত্রী

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হাওরের ফসল ও মানুষ বাঁচাতে স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে। হাওরবাসী যেন নির্বিঘ্নে ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। কৃষকের মুখে হাঁসি দেখলে হাঁসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষকের চোখে পানি দেখলে তাঁর মন কাঁদে। তিনি সবসময় কৃষকের হাসিমুখ দেখতে চান।
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দিনব্যাপী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন কালে কৃষকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে নদীভাঙন রক্ষায় বিভিন্ন স্থায়ী প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। সারাদেশে সাড়ে পাঁচশ এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নদীভাঙন কবলিত ৫৫টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা স্পটে গিয়ে নির্দেশনা দিয়ে কাজ করাচ্ছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ করা হচ্ছে, বাঁধ প্রশস্ত করণ হচ্ছে, বনায়নও করা হচ্ছে। যেখানে যা করা প্রয়োজন, তাই করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সবসময় বৃহত্তর সিলেটকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই সিলেট বিভাগের জন্য করণীয় সকল কিছুই তিনি (শেখ হাসিনা) করে চলছেন।
তিনি বলেন, আগামীতে যাতে হাওরবাসী শতভাগ ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারেন, ধানের ন্যায্যমূল্য পান, উৎপাদন খরচ কমাতে পারেন, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। আমরা এখন বিদেশেও খাদ্য রফতানি করি। এতে হাওরের বিরাট কৃষকের অবদান রয়েছে। হাওরবাসীর জন্য আমাদের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। হাওরের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক শামীম বলেন, কাজের গুণগত মান ঠিক রেকে নিদিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে সর্তকতার সাথে কাজ করতে হবে। আর কাজের ব্যাপারে কারও অনিয়ম ও গাফিলতি সহ্য করা হবে না। অনিয়ম করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী প্রজন্ম নিয়ে ভাবেন, সেজন্য তিনি আগামীর বাসযোগ্য বিশ্বমানের সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ গড়তে চান। সেজন্য তিনি ডেল্টাপ্লান-২১০০ বাস্তায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এই মহাপরিকল্পনার সিংহভাগ কাজই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কোনো সমস্যাই থাকবে না। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামীমা শাহরিয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী এস.এম শহিদুল আলম, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমূখ। এসময় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।