Monday, 26th October, 2026

প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পর প্রথম ভেদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচার হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের অভাবে দীর্ঘদিন এ সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়নি।
গতকাল সোমবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পলি আক্তার (২২) নামে কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন এক প্রষূতি।
১৯৭২ সালে উপজেলায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু করে সরকার। এর পর ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ১৯ শয্যার একটি নতুন তিনতলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করে হাসপাতলটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪০ বছর ওই হাসপাতালে কোনো অপারেশন হয়নি। সরকারি ওই হাসপাতালে একটি অপারেশন থিয়েটারের অভাবে ভেদরগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন এতদিন। তবে পলি আক্তার নামের ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের মধ্য দিয়ে ৪০ বছরের সেই ভোগান্তির অবসান হলো।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন ভেদরগঞ্জ পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ডের ফারুক চোকদারের স্ত্রী পলি আক্তার। তিনি এই প্রথম মা হলেন। স্বভাবতই ভয় এবং উৎকণ্ঠা কাজ করছিল প্রসূতি এবং স্বজনদের মধ্যে। তবে তিন ঘণ্টা পর তিনজন ডাক্তার, তিনজন সিনিয়র নার্স ও স্টাফদের সহযোগিতায় সিজারিয়ান অপারেশনে তিনি একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। ফ্লুইডের পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছিল। নবজাতকের মুভমেন্ট এবং অবস্থা স্বাভাবিক প্রসবের পর্যায় থেকে কিছুটা জটিল ছিল। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনরা বাইরের ক্লিনিকে নিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করার কথা ভাবেন। কিন্তু রোগীর আর্থিক স্বচ্ছলতাও তেমন ভালো ছিল না।
গত তিনদিন আগেই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারটি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান ইবনে আমিন, ডা. তাসতী আরিফা দীশা, ডা. মাসুম আবিদ, মেডিকেল অফিসার (আরএমও) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভেদরগঞ্জ। ডাক্তার জেসমিন সুলতানা (জুনিয়র গাইনি কনসালটেন্ট) ডা. শাহিনুর নাজিয়া, মেডিকেল অফিসার উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডা.তাসমিয়া কবির প্রমি, নার্সিং সুপারভাইজার ফাহিমা আক্তার, ওয়ার্ড ইনচার্জ সাদিয়া আফরিন, ওটি ও ইওসি ইনচার্জ রহিমা আক্তার, ওয়ার্ড বয় সুমনের সহযোগিতায় সফলভাবে ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন হয়। আর এর মাধ্যমেই অপারেশন থিয়েটারটি চালু হয়। এতে উপজেলাবাসীর দীর্ঘ ৪০ বছরের প্রত্যাশা পুরণ হলো।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান ইবনে আমিন জানান, সরকারি হাসপাতালটিতে বিনা খরচে আমরা প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্সদের নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর অত্যন্ত সফলভাবে ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করেছি। তবে বাইরে থেকে তাদের ৭০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছেন।
শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. আবদুল্লা আল মুরাদ বলেন, গত নয়-দশ মাসে ডা. হাসান ইবনে আমিন ভেদরগঞ্জ হাসপাতালকে টপ লেবেলে নিয়ে আসছেন। এটা শুধু ভেদরগঞ্জ নয় সারা শরীয়তপুরের গর্ব। ভেদরগঞ্জে ও আশপাশের এলাকার প্রসূতিসহ অন্যান্য রোগীদের জন্য এটা একটি সুখবর। রোগীরা এখন বিনামূল্যে সেখানে সিজারিয়ানসহ সম্ভাব্য প্রায় সকল অপারেশনের সুবিধা নিতে পারবে।