Monday, 26th October, 2026

সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী সহ হাজারো মানুষ

সেতু আছে অথচ তৈরি করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে বাঁশের সাকো নির্মাণ করে চলাচল করছে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার শেষ সিমানা পূর্ব সোনামুখী এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। এতে যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে বেড়েছে ভোগান্তি। আর সাঁকো দিয়ে পারাপারে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এলজিইডি বলছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে নেয়া হবে দ্রুত ব্যবস্থা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব সোনামুখী থেকে ৪ কিলোমিটারের একটি সড়ক ডামুড্যা উপজেলার কেওরভাঙ্গা এলাকায় মিলিত হয়েছে। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ। স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সড়কটির উপর থাকা একটি পুরাতন কালভার্ট ভেঙে ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য গত বছর নভেম্বর মাসে কার্যাদেশপত্র দেয় এলজিইডি। বিডিআর করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩২ লাখ টাকা নির্মাণ চুক্তির পর কাজ শেষ হয় গেলো মার্চে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই ২৮ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর সংযোগ সড়ক থেকে সেতুটি বিচ্ছিন্ন থাকায় চলাচল করছে না কোনো যানবাহন। ফলে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝঁকিতে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের। অতি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবী তাদের।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় নুরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সাথে। তিনি বলেন, আমার প্রতিদিন মাদ্রাসায় যেতে কষ্ট হয়। ব্রিজটি বানালেও গোড়ায় মাটি দেয়নি। সাঁকো দিয়ে যাওয়ার সময় একদিন পড়ে বইখাতা সব ভিজে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: মনির বলেন, ৮ মাস ধরে ব্রিজটি এভাবেই পড়ে আছে। গোড়ায় মাটি দেয়নি। এজন্য যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়। কেউ মারা গেলে নৌকায় করে ওপারে নিয়ে মাটি দিতে হয়। সরকারের কাছে একটাই দাবী দ্রুত ব্রিজটির গোড়ায় মাটি দেয়া হোক।
সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘপথ ঘুরে পরিবহন করতে হয় কৃষিপণ্য। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের। এ ব্যাপারে স্থানীয় আব্দুর রব বেপারী নামের এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এই ব্রিজটি হলেও আমাদের কোনো ফায়দা আসতেছে না। ব্রিজের গোড়ায় মাটি না থাকায় যানবাহন চলাচল করছে না। এরজন্য ওপারে আমাদের কৃষি জমিতে সার নিতে হলে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়। তাতে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিডিআর করপোরেশনের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, নির্মাণ শেষে বৃষ্টির কারণে ব্রিজের গোড়ায় পানি জমা হওয়ায় ভরাট করা সম্ভব হয়নি। দুই এক দিনের মধ্যেই ভরাট করার ব্যবস্থা করবো।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু নাঈম নাবিল বলেন, এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা খুব দ্রুত সেতুর গোড়ায় মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করবে।