ভেদরগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ইয়াশিনের (১৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় ভেদরগঞ্জ পৌরসভার গৈড্যা গ্রামে নানার বাড়ির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর পূর্বে বেলা ১১ টায় ফারদিন ইয়াশিনের জানাজা নামাজ তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গৈড্যা এম এস ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে হানিফ মৃধার বড় ছেলে ইয়াশিন গত ১৩ জুন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সে মারা যায়। এর পূর্বে গত ৬ জুন রাতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় সে। তাকে প্রথমে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ ৮ দিন চিকিৎসার পরে মৃত্যু বরণ করে।
নিহত ফারদিন ইয়াশিনকে বিএনপি কর্মীর ছেলে দাবী করে জানাজার পূর্বে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবী করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান তালুকদার রতন, সাবেক সভাপতি ও আহবায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসেম ঢালী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহবায়ক কমিটির সদস্য বিএম মোস্তফা, সাবেক ছাত্রনেতা সায়েম খান, পন্নি কাজি। এ সময় নিহতের পিতা হানিফ মৃধা ও ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের মা ফরিদা বেগম জানান, আমার বেঁচে থাকার অলম্বন ছিলো ইয়াশিন। ওর বাবা আলাদা থাকায় আমি চাকুরী করে ওকে লালন পালন করতাম। ওর বাবার অভাব কোন দিনও বুঝতে দেইনি। আজ আমার সোনা মানিক রাজনীতি বলি হলো। আমি হলাম সন্তান হারা। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলেকে কারা মেরেছে তা আমার বাবা বলে গেছে। আমি পুলিশকে বলেছি সে নাম। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সায়েম খান বলেন, ইয়াশিন দীর্ঘ ৮ দিন ঢাকার কাকরাইলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ছিলো। গত শুক্রবার রাতে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। ১৪ জুন শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে রাত ১১ টায় মৃতদেহ এলাকায় নিয়ে আসে। আজ রোববার জানাজার পরে তার দাফন করা হয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক হাবিবুর রহমান তালুকদার রতন বলেন, ইয়াশিনের হত্যাকারী যে বা যারাই হউক তাদের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। সন্ত্রাসীদের কোন দলের পরিচয়ে বিচার হবেনা। তারা সন্ত্রাসী! আমি বিশ্বাস করি পুলিশ দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করে বিচারে মুখমুখি করবে।
ভেদরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ পারভেজ আহমেদ সেলিম বলেন, গত শুক্রবার রাতে ইয়াশিন মারা যায়। এর পরে আমাদের অনুরোধে ঢাকার পল্টন থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরৎহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। তার পরে লাশের ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ বিষয়ে গত ১০ তারিখ ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।