Sunday, 23rd August, 2026

দৌলতপুরে আনিস গ্যাংয়ের অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী,জমিদখল,চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসসহ নানা অভিযোগ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও তার গ্যাং’য়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সরকারি জায়গা দখল, বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি, অন্যের দোকান ভাঙচুর ও নেশাদ্রব্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি, তাদের বিভিন্ন ‘অপকর্মের ভিডিও’ গত ১১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর শনিবার বিকেল ৪টার দিকে গ্যাং লিডার আনিছুর রহমান আনিসের নেতৃত্বে ১০/১২ জন তাঁর ক্যাডার বাহিনী উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের কল্যাণপুর স্কুলের পাশে অবস্থিত আবুল কাশেম কাশমীর-এর দোকান ঘর ভাঙচুর করে।

ভুক্তভোগী আবুল কাশেম (কাশ্মীর), যিনি বাঁচামারা ইউনিয়ন বিএনপি-র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, অভিযোগ করেন—স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ভাড়া নিয়ে ঘর তোলার সময় বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের লোকজন তাঁর কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জয়নাল, আলামিন, সিকান্দার আলী, আহম্মদ, হবি, মালু, গোলা, আকবর, এমদাদুল সহ ১০-১২ জন ক্যাডার তাঁর ঘর ভেঙে দিয়ে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং কিছু মালামাল পাশের খালে ফেলে দেয়। এতে তাঁর প্রায় ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, বাঁচামরা ইউনিয়ন বিএনপি-র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াহিয়া মোল্লা অভিযোগ করেন, আনিছুর রহমান তাঁর বাপ-দাদার ৩ বিঘা জমি অন্যের কাছে বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকা চাইতে গেলে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন এবং জনসম্মুখে এলোপাথাড়ি লাথি ঘুষি মেরে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এলাকাবাসী ও বিএনপি-র নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আনিছ শুধু চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা নয়, তিনি মাদক ব্যবসার সাথেও তাঁর ভাই, ভাবী ও ভাতিজাদের জড়িয়ে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

 

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির অফিস থাকা সত্ত্বেও সরকারি নিষেধ অমান্য করে সরকারি জায়গায় তাঁর ব্যক্তিগত অফিস ঘর উঠিয়ে সেখানে ‘পার্টি অফিসের’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন। ভুক্তভোগী ইয়াহিয়াসহ অন্যান্য কর্মীরা জানান, তিনি দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চাঁদার টাকা না দিলেই সাধারণ মানুষের ওপর ‘আওয়ামী লীগের ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন করেন। একইসঙ্গে তিনি সংগঠনের কর্মীদের হয়রানি করে দূরে সরিয়ে রাখেন। অভিযুক্ত আনিছুর রহমান আনিস দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার রাজনৈতিক পদবীর আড়ালে এলাকাজুড়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। এতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন মানিকগঞ্জের এই চরাঞ্চলের মানুষ।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদল-এর সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান উজ্জল মিয়া বলেন, আনিছের নামে যে সকল অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা বিএনপি-র নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার প্রতিপক্ষ মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমি এসকল কিছুর সাথে জড়িত নই।”

এবিষয়টি দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর আল মামুন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দোকান ভাঙচুর নিয়ে পাঁচ থেকে সাতজনের নামে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকান ভাঙচুরের সত্যতাও মিলেছে”।সার্বিক বিষয় নিয়ে ওসি মামুন জানান, “বিষয়গুলো তদন্তাধীন আছে। তদন্তে যে প্রকৃত দোষী, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০৯ নভেম্বর ২০২৫

সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

www.janadristi.com