Friday, 21st August, 2026

ফটিকছড়িতে লোকালয়ে পোল্ট্রি খামার বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী !

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মা এগ্রো নামের একটি মুরগী খামারের বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর থাকা দায় হয়ে পড়েছে।

পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে জনবসতিপূর্ন এলাকায় গড়ে ওঠা পোল্ট্রি খামারটির বর্জ্য পার্শ্ববর্তী খাল, ফসলি জমিতে ফেলার কারনে নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল ও মাটির গুণাগুণ।

পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে মৎস্য উৎপাদন। এছাড়া সৃষ্ট দুর্গন্ধ বাতাসে মিশে দুষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। যার ফলে ক্রমাগত ভাবে স্বাস্থ্যঝুকি বাড়ছে স্থানীয়দের।

২২ জুলাই(মঙ্গলবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নারায়নহাট ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হাঁপানিয়া গ্রামস্থ জহুর আহমদের বাড়ি সংলগ্ন পাশাপাশি চারটি শেডের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল মুরগী খামার।

এতে মুরগীর বর্জ্যগুলো ফেলার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় তা সরাসরি ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে খোলা জায়গায়। যার কারনে পথচারীরা সড়কটি ব্যবহার করতে গিযে নাক চেপে ধরতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বর্জ্যগুলো বৃষ্টির পানিতে মিশে আশেপাশের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, এ খামারের বর্জ্যের দুর্গন্ধে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিকাল হলেই দুর্গন্ধ বাড়তে থাকে। ফলে সূর্য ডোবার আগে দরজা, জানালা বন্ধ করে বাধ্য হয়ে ঘরে ঢুকে পড়ি।

একই এলাকার ষাটোর্ধ রহিমা খাতুন বলেন, খামারের ‘দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নিতে পারি না। বৃষ্টির পানিতে ভেসে খামারের আবর্জনা আমাদের উঠানে চলে আসে। বাসায় মেহমান এলে লজ্জায় পড়তে হয়। এমনকি খেতে গিয়ে দুর্গন্ধে বমি পর্যন্ত চলে আসে। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই।’

জানতে চাইলে খামার মালিক মোরশেদুল আলম বলেন, ‘পোল্ট্রি খামার থেকে দুর্গন্ধ হবেই। কোটি টাকা ইনভেস্ট করে এটি পরিচালনা করছি। এলাকাবাসী কি বলল সেটি দেখার সময় আমার নাই। তাদের অসুবিধা হলে অন্যত্র চলে যাক।

ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোমিন বলেন, “আমাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জানতে পেরেছি, খামারটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে খামারটি পরিদর্শনে পাঠিয়েছি। তিনিও সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শীগ্রই ওই স্থানটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০৯ নভেম্বর ২০২৫

সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

www.janadristi.com