নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এখনই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি হচ্ছে না। ফলে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে দ্রুত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পান, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তবে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাঁদের বেতন সমন্বয় কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আদেশ জারি করবে অর্থ বিভাগ। তবে কবে নাগাদ আদেশটি জারি হতে পারে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও বিচার বিভাগীয় কর্মীদের জন্য নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেতনপ্রক্রিয়ায় প্রচলিত হাতে-কলমে হিসাব পদ্ধতি প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্বের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন হিসাবের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুসরণ করায় নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী।