Sunday, 23rd August, 2026

জনকল্যাণের রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

যে কোনো মূল্যে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক শক্তিকে মতপার্থক্য ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির ভয়াবহ পরিণতি দেশ দেখেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। মতপার্থক্য যেন বিভেদের কারণ না হয়—সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা কিংবা প্রতিশোধমূলক রাজনীতি দেখতে চান না তিনি। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক হলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অতীতে বিভাজনের রাজনীতি জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা সবারই জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা রাজনৈতিক কর্মীদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, দেশের সমস্যা ছিল, এখনও আছে—তবে কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া কাম্য নয়।

নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তিনি একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আগামী ২২ তারিখ থেকে দলের সব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাবেন। চার কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রস্তাব। অনুষ্ঠানে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। কার্ডটির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন।

তারেক রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের হাতে অর্থ গেলে তা মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তিনি আরও জানান, এই সুবিধা হবে সর্বজনীন, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।

স্বাস্থ্যখাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান। স্বাস্থ্যখাতে মৌলিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতন করতে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কর্মীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নারী হবেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এমন সমালোচনা করতে হবে যাতে তা দেশের জনগণের সমস্যা সমাধানে সহায়ক হয়।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০৯ নভেম্বর ২০২৫

সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

www.janadristi.com