আজ , , ,

এআই ট্রাফিক মামলার তথ্য যাবে এসএমএসে, দেখা যাবে আইনভঙ্গের ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া যানবাহনের মালিকদের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। আগামী মাস থেকে এ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে মামলার বিস্তারিত তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও দেখার সুযোগ পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিএমপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএমএসে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর, আইন লঙ্ঘনের স্থান, অপরাধের বিবরণ, প্রযোজ্য আইন বা ধারার উল্লেখ, প্রসিকিউশন কোড, জরিমানার পরিমাণ এবং অর্থ পরিশোধের সময়সীমা জানানো হবে। এ ছাড়া কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হবে পুলিশের অফিসিয়াল ফোন নম্বর।

এসএমএসে থাকা লিংকে প্রবেশ করলে মামলার কেস স্লিপের পিডিএফ কপি এবং আইন লঙ্ঘনের ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ দেখা যাবে। তবে ভিডিও ডাউনলোড কিংবা বাণিজ্যিকভাবে অপব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে না বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।

ভুয়া এসএমএসে প্রতারণা, সতর্কতায় নতুন উদ্যোগ

রাজধানীতে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও মামলা করার কার্যক্রম চালুর পর থেকে এ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রতারক চক্র বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নাম ব্যবহার করে ভুয়া জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বসবাসকারী একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনাম মাহফুজের মোবাইল ফোনেও এ ধরনের একটি বার্তা আসে। এতে তাঁর গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করায় জরিমানা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় অর্থ পরিশোধের একটি লিংক।

বার্তাটিকে সত্য মনে করে আনাম লিংকে প্রবেশ করে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, এসএমএসটি ভুয়া।

এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে এরই মধ্যে ডিএমপি ও বিআরটিএ পৃথক সতর্কবার্তা দিয়েছে। নতুন উদ্যোগে বিআরটিএর নাম ব্যবহার করে পাঠানো বার্তার পরিবর্তে পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি মামলার তথ্য পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রকৃত মামলা শনাক্ত করা এবং ভুয়া জরিমানার বার্তা থেকে সতর্ক থাকা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসএমএস আসলে কী করবেন?

ট্রাফিক মামলার নামে কোনো এসএমএস পেলে তাড়াহুড়ো করে লিংকে প্রবেশ বা অর্থ পরিশোধ না করে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।

  • গাড়ির নম্বর যাচাই করুন: বার্তায় উল্লেখ করা নম্বরটি আপনার গাড়ির কি না, নিশ্চিত হোন।
  • মামলার তথ্য মিলিয়ে দেখুন: অপরাধের স্থান, সময়, বিবরণ, প্রসিকিউশন কোড ও জরিমানার তথ্য পরীক্ষা করুন।
  • অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করুন: সন্দেহ হলে এসএমএসে দেওয়া নম্বরের ওপর নির্ভর না করে পুলিশের যাচাইকৃত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন।
  • অপরিচিত লিংকে অর্থ দেবেন না: লিংকের ঠিকানা যাচাই না করে ব্যাংক, কার্ড বা মোবাইল আর্থিক সেবার গোপন তথ্য দেবেন না।
  • প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: সন্দেহজনক বার্তা, লিংক ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

ডিএমপির নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ট্রাফিক মামলার তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আসতে পারে। তবে এসএমএসে দেওয়া লিংক ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া যে সত্যিই পুলিশের অনুমোদিত, তা নিশ্চিত হয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

২৩ জুলাই ২০২৫

লিবিয়া হয়ে ইতালীর অভিবাসী প্রত্যাশী মাদারীপুরের ১৪ যুবক ৫ মাস ধরে নিখোঁজ

www.janadristi.com