গঠনের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির কমিটি স্থগিত করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ। শাখা সভাপতির নিষ্ক্রিয়তা ও কমিটির কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি না থাকার অভিযোগের মধ্যে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি স্থগিতের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীর জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৫২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় সংসদ। কমিটিতে আব্দুল্লাহ আল মাহাথিরকে সভাপতি, মো. ইসমাইলকে সাধারণ সম্পাদক এবং মো. উলফাতুল রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকে সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহাথির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সংগঠনের ব্যানারে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কমিটির অন্য নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শাখা কমিটির একটি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির নিষ্ক্রিয়তাসহ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরা হয়। পরে কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন করে কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কেন স্থগিত, জানালেন নেতারা
স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির কয়েকটি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি কমিটি নবায়নের প্রয়োজন মনে করেছে।
অন্যদিকে, স্থগিত কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহাথির বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন। তাঁর ছাত্রজীবনও প্রায় শেষের দিকে এবং তিনি মাস্টার্স শেষ করছেন। ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় সংগঠনকে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না।
আব্দুল্লাহ আল মাহাথির বলেন, ‘এতে আমার ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা ভাবছি। বিষয়টি গুরুতর কিছু নয়।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিল না। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। এসব বিবেচনায় সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে জরুরি সাংগঠনিক সভায় কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সভায় ৫২ সদস্যের কমিটির ৩০ জনের বেশি উপস্থিত ছিলেন। শাখা সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ থাকলেও শুধু একটি নির্দিষ্ট কারণে কমিটি স্থগিত করা হয়নি। পুরো কমিটির কার্যক্রমে গতি আনা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের তুলনায় জাতীয় ছাত্রশক্তিকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করাই এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
কমিটি স্থগিতের পর এখন নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় সংসদ জানিয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।