ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এতে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। এ ছাড়া অভিযানে একাধিক মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনি ও রোববার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর) আসামের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় বন বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয়।
রোববার ওই বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দিনেই প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়। এতে কয়েকশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগের দিন আসামের আরও কয়েকটি জেলায় পাঁচ শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
লুতুমারি এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কয়েকশ হেক্টর জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর দাবি, তারা অবৈধভাবে জমি দখল করে বসবাস করছিলেন না; বরং সরকারই তাদের সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের দাবি, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ পদক্ষেপকে রাজ্যের উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তবে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে উচ্ছেদ অভিযানে একাধিক মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকেও এ অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্তদের আবাসনের ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মসজিদ ভাঙার অভিযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।