ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে কলেজের সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনের ঐতিহাসিক পটভূমি, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার চেতনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কবিরুল আলম, সহকারী অধ্যাপক লাকিবুর রহমান মিয়া ও প্রভাষক মো. শাকিল হোসেন। বক্তারা দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রভাষক মো. বাবুল শিকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা ও লেখনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে। পরে আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে ইতিহাসচর্চায় আগ্রহী করা, সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ এবং দেশপ্রেম ও জাতীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষামূলক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।