চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধাক্কা খেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এর মধ্যে শুধু ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই ফেল করেছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ইংরেজিতে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। অর্থাৎ এই দুই বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী।
এদিকে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কখনো পাসের হার এত নিচে নামেনি।
ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে ফেল করেছেন, তাঁকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ফলাফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং দীর্ঘ ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।