ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সাংগঠনিক নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা ও পৌর যুবদলের দায়িত্বশীল নেতারা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন অপর পক্ষের নেতারা।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজারের চলন্তিকা মিষ্টির দোকানের সামনের দোতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান ও পৌর বিএনপির সহসভাপতি বাশারুল বারী।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কতিপয় ব্যক্তি যুবদলের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছেন। যুবদলের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম রয়েছে। এসব নিয়ম উপেক্ষা করে কর্মসূচি পালন করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তারা আরও বলেন, যুবদল একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক সংগঠন। দলের ত্যাগ, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান রেখে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারেন, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপি নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন। তবে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ উপজেলা ও পৌর যুবদলের দায়িত্বশীল কমিটির পদধারী নন বলে দাবি করেন তারা। সাংগঠনিক পরিচয় ও অনুমোদন ছাড়া কীভাবে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক নোমিনুল ইসলাম সোহাগ, মো. মনির হোসেন ও আলীরাজ শরীফ, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এসএম মাহমুদুল হাসান ইয়াদ এবং পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. কায়েম শিকদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মোল্লা বলেন, যুবদল একটি বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। দলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আদর্শকে ধারণ করেই তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছেন। কাউকে ছোট করা কিংবা সংগঠনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
তিনি আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা উচিত। দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আলফাডাঙ্গার স্থানীয় যুবদলের রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।