২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে দুর্বল ফলাফলের কারণে সামগ্রিক পাসের হার কমেছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছেলে এবং ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন মেয়ে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৪৪ হাজার ২৭২ জন। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন ছেলে এবং ২৮ হাজার ৪১৫ জন মেয়ে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছেলেদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছেন।
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা গত বছরের ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশের তুলনায় ০ দশমিক ৮২ শতাংশ কম। অন্যদিকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। নিচের শ্রেণিগুলো থেকে এসব বিষয়ের মৌলিক ধারণা বা বেসিক পরিষ্কার না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করতে পারেনি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আরও সচেতন হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ শিপন মিয়া, বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আবু সালেহ মো. তারিক মাহমুদ, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোসাঃ পাপিয়া আক্তার ও মো. মাহমুদুল ইসলাম।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, কুমিল্লা বোর্ডে এবার অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।