ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাসুর রোড এলাকায় আটতলা ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত একটি খেলনা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সাকিব নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। তিনি কারখানাটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাঁদের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশনের ইউনিটগুলোও আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করে। পাশাপাশি সদর দপ্তর থেকে আরও তিনটি রিজার্ভ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়। ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সেই আশঙ্কায় বিশেষায়িত উদ্ধারযানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলো ব্যবহার করতে হয়নি।
কারখানার শ্রমিক ফাতেমা বলেন, “আমরা বুঝে ওঠার আগেই বিকট একটি আওয়াজ হয়। পরে দেখি, ভবনের সব জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা সবাই দ্রুত বের হয়ে আসি। আটতলায় রং করার কাজে ব্যবহৃত কেমিক্যাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”
অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানাটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানাটিতে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। তবে কারখানাটির অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দেখা গেলেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত পরিদর্শন ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী লুৎফর জামান বলেন, “ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা আমাদের চোখে পড়েনি। তবে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত থাকায় ভবনটির কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভবনটির অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান রয়েছে কি না, তা পরবর্তী সময়ে যাচাই করে জানানো হবে।”
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে ফায়ার সার্ভিসের দুজন পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কেমিক্যাল কারখানাগুলোকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বারবার বলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরু রাস্তা ও বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।