সাতক্ষীরায় প্রেরণা এনজিওর পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করা হয় বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রেরণা এনজিওর মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে শম্পা গোস্বামীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শম্পা গোস্বামীর যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা এবং প্রেরণা এনজিওর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।
এ ছাড়া সংস্থাটির মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার চালানো এবং কর্মীদের ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রেরণা এনজিওর প্রধান কার্যালয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর কালীগঞ্জের কার্যালয় গুটিয়ে নেওয়া হলেও ওই এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের জন্য বরাদ্দ সরকারি অনুদান উত্তোলন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার এবং অনুদানের অর্থের অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ভারতে জমি, বাড়ি ও ব্যাংক হিসাবে অর্থ থাকার অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, তিনি ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভারতে জমি কিনেছিলেন এবং তাঁর নামে ভারতীয় আধার কার্ড রয়েছে। বাংলাদেশে এনজিওবিষয়ক ব্যুরো থেকে ২০২২ সালের ২০ আগস্ট প্রেরণা এনজিওর নিবন্ধন নেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তাঁর নাগরিকত্ব, ভারতে সম্পদের মালিকানা এবং এনজিওর নিবন্ধনসংক্রান্ত এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্সের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট শম্পা গোস্বামীকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় এবং তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন বলে ওই সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
প্রেরণা এনজিওর নামে নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের সরকারি অনুদান বিতরণ ও উত্তোলন নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক নাজমুন নাহার।
তিনি বলেন, প্রেরণা এনজিওর বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঢাকা থেকে গত ১০ বছরের অনুদানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করছেন।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামির সঙ্গে অফিসের দরজা বন্ধ করে বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাজমুন নাহার জানান, তদন্তের স্বার্থেই শম্পা গোস্বামীকে অফিসে ডাকা হয়েছিল।
নাগরিক নেতা আমিনুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রেরণা এনজিওর মাধ্যমে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থায়ন করা হচ্ছে এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এনজিওর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এনজিওর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন ও অর্থায়নের কার্যক্রম চলছে। তিনি শম্পা গোস্বামীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে এবং সব ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।