আজ , , ,

হাতিয়ায় বেড়িবাঁধের পাশে জমি দখল করে বসতি বাণিজ্যের অভিযোগ, পরিবারপ্রতি ৪০ হাজার টাকা আদায়ের দাবি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর টাংকির ঘাট-চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় নবনির্মিত বেড়িবাঁধের পাশের জমি দখল করে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিয়ে এসব বসতি গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বয়ারচর টাংকির ঘাট-চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে মাটি ভরাটের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। তবে বাঁধের লেভেলিং ও মাটি সমতলকরণের কাজ এখনো বাকি। এরই মধ্যে বাঁধের পাশের খালি জায়গায় প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি বসতি গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতিয়া উপজেলা চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ব্রিজিং, সি-ডাইক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং রেগুলেটরের ডাইভারশন খাল খননের জন্য তাঁদের জমি অধিগ্রহণ না করেই কাজ করা হয়েছে। এসব জমির বন্দোবস্তসংক্রান্ত নথি ও খতিয়ান রয়েছে দাবি করে তাঁরা নিজেদের বৈধ মালিক ও ভোগদখলকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় রহমান আলী চৌকিদারের ছেলে নুর নবী ও তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনের নেতৃত্বে একটি চক্র তাঁদের বন্দোবস্তীয় ও খতিয়ানভুক্ত জমিতে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন করাচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের।

এতে বাধা দিতে গেলে জমির মালিকদের প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় তাঁরা হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁদের দাবি, এখনো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা বলেন, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে তাঁদের জমি দখল করা হচ্ছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বেড়িবাঁধের বাইরে অবশিষ্ট জমি তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বেড়িবাঁধের পাশের জমিতে বসতি স্থাপনকারীরা জানান, তাঁরা ভিটেমাটিহারা। এ কারণে নুর নবী ও হারুনের মাধ্যমে সেখানে বসতি স্থাপন করেছেন। তবে ভয় ও আতঙ্কের কারণে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তাঁরা।

দলের নাম ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারাও। হরণী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান দোলন বলেন, হারুন তাঁদের তাঁতী দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নুর নবী তাঁদের দলের কেউ নন। নুর নবী একসময় নদীতে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একটি বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দোলন আরও বলেন, বেড়িবাঁধের জমি দখলের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, বেড়িবাঁধের ওপর কোনো বন্দোবস্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে যাঁরা বসতি স্থাপন করেছেন, তাঁরা অবৈধভাবে রয়েছেন। অর্থের বিনিময়ে যাঁরা মানুষজনকে সেখানে বসতি স্থাপনের জন্য নিয়ে আসছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বেড়িবাঁধের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

২৩ জুলাই ২০২৫

লিবিয়া হয়ে ইতালীর অভিবাসী প্রত্যাশী মাদারীপুরের ১৪ যুবক ৫ মাস ধরে নিখোঁজ

www.janadristi.com