ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ৩১তম হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিভাগে ৭৫ জন বিজয়ীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মুন্সী বিল্লাল হুসাইন নিজস্ব অর্থায়নে বিজয়ীদের জন্য এসব পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন। প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা মডেল মসজিদের সভাকক্ষে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখা এ আয়োজন করে।
প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিভাগে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। বিভাগগুলো হলো—৫ পারা, ১০ পারা, ২০ পারা, ৩০ পারা এবং ১০ বছর বয়সী হাফেজ বিভাগ। প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি বিভাগ থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মোট ৭৫ জন বিজয়ী এ পুরস্কার পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফায়েক। প্রধান বক্তা ছিলেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মুন্সী বিল্লাল হুসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা কওমি মাদ্রাসার উপদেষ্টা মাওলানা তামিম আহমেদ মিলন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ ক্বারী ওমর ফারুক। সঞ্চালনা করেন মুফতি আশিকুর রহমান।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মুন্সী বিল্লাল হুসাইন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে ভালো কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারও একটি ভুলের কারণে তাঁর সব ভালো দিক উপেক্ষা করা উচিত নয়। একটি সাদা কাপড়ে সামান্য দাগ লাগলে পুরো কাপড়টিকে দোষারোপ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি মানুষের ভুলের পাশাপাশি তার ভালো দিকগুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
আয়োজকেরা জানান, পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া, হাফেজদের উৎসাহিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে কোরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।