Sunday, 4th October, 2026

পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ : নিম্নমানের খোয়া-রাবিশে কাজ, এলাকাবাসীর বাধা ও হাতাহাতি

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলা সদরের মোহাম্মদপুর–বাজার সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় সড়ক নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ারকে ম্যানেজ করেই ঠিকাদারি অনিয়ম চলছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোহাম্মদপুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে পানছড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স কবি রঞ্জন (খাগড়াছড়ি)। তবে মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাব-ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম সড়কের মেকাডম পরিষ্কার না করেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহার করে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের বাধার মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ৬ মাস সময় বৃদ্ধি নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।

গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিম্নমানের খোয়া ও মেকাডম পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাইয়ের কাজ করাকে কেন্দ্র করে সাব-ঠিকাদার ও তার সহযোগীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে এলাকাবাসী থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হন।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর এলাকার আবুল কামাল, আলী আকবর, হাবিবুর রহমান সহ ৪৬ পরিবারের গণস্বাক্ষর সংযুক্ত করে জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। তারা দ্রুত সঠিক মানের উপকরণ ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা কালাম, মঞ্জু মিয়া, আরমান ও সোহেল সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, রাস্তায় একেবারেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। মেকাডমে শুধু রাবিশের ওপর পিচ ঢেলে সিলেটি পাথর দিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে। এভাবে কাজ চললে বর্ষা মৌসুমে সহজেই পিচ উঠে যাবে।

অটোরিকশা চালক মো. রুবেল বলেন, “দীর্ঘদিন রাস্তাটি খুব খারাপ ছিল। এখন কাজ শুরু হলেও এত নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে যে রোলার চালাতেই ইট পাউডার হয়ে যাচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে যাবে।”

৯ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার সকালে পুনরায় অনিয়মে কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শুরুতে কিছু খারাপ খোয়া ব্যবহার করা হয়েছিল, তবে বর্তমানে ভালো খোয়া আনা হয়েছে। কাজের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলুন।”

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাজু আহম্মেদ বলেন, “গত বুধবার আমি কাজ পরিদর্শন করেছি। বিটুমিন ও পাথর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রয়েছে। তবে মেকাডমে কোথাও ত্রুটি থাকতে পারে। বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে দেখা হবে।”

এলাকাবাসী দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০২ নভেম্বর ২০২৫

ধর্ম উপদেষ্টা জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমা হবে জাতীয় নির্বাচনের পর

www.janadristi.com