Sunday, 4th October, 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: অজ্ঞাত লাশ শনাক্ত, কান্নায় ভেঙে পড়ল শহীদ পরিবার

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বহু ব্যক্তির লাশ তখন অজ্ঞাতপরিচয়ে দাফন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ মাস পর প্রিয়জনের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি শহীদ পরিবারের সদস্যরা। রায়েরবাজার কবরস্থানে এক হৃদয়বিদারক আবহ তৈরি হয়। অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মোট ১১৪ জনের অজ্ঞাত লাশ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এ কার্যক্রমে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নয়টি পরিবারের দেওয়া নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে আটজন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট একটি লাশের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

সোমবার রায়েরবাজার কবরস্থানে আয়োজিত ‘অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরণ’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে আটটি পরিবারের কাছে তাদের স্বজনদের কবর শনাক্ত করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে তারা হলেন, ঢাকার মাদারটেকের শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮), মোহাম্মদপুরের শহীদ সোহেল রানা (৩৮), শেরপুরের শহীদ আসাদুল্লাহ (৩১), ফেনীর শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯), ময়মনসিংহের শহীদ মাহিম (৩২), কুমিল্লার শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬), পিরোজপুরের শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২) এবং চাঁদপুরের শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত বহু ব্যক্তির লাশ অজ্ঞাতপরিচয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে শহীদ পরিবারের দাবি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে লাশ উত্তোলন ও শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এই সংবেদনশীল কার্যক্রমের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, প্রোফাইলিং এবং পুনঃসমাধিস্থকরণ সম্পন্ন করা হয়।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সিআইডির পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ডিএমপি, ডিএনসিসি, জেলা প্রশাসন ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনসহ একাধিক সংস্থা এতে সহযোগিতা করে।
এই বৃহৎ ফরেনসিক উদ্যোগ শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারভিত্তিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০২ নভেম্বর ২০২৫

ধর্ম উপদেষ্টা জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমা হবে জাতীয় নির্বাচনের পর

www.janadristi.com