Sunday, 4th October, 2026

ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাসদর। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই বাড়তি সেনা মোতায়েনের আয়োজন গত ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মনজুর হোসেন।
অতীতের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে যেখানে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হতো এবং তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতো- সেখানে এবার এই বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন এবং তাদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন-সে লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্য রেখে বাকি সবাইকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার কাজে নিয়োগ দিয়েছেন।

মনজুর হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় যানবাহন অপ্রতুল হওয়ায় অসামরিক প্রশাসনের কাছে রিকুইজিশনের মাধ্যমে গাড়ি চাওয়া হয়েছে। তা পর্যাপ্ত না পাওয়ায় প্রয়োজনে গাড়ি ভাড়া করে হলেও সেনাসদস্যদের টহল কার্যক্রম নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সেনাসদস্যরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে টহল দিচ্ছেন। এই কার্যক্রম ২০ জানুয়ারি থেকে জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনের আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সে কারণেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত যে মোতায়েন সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার, তা বাড়িয়ে ৫০ হাজারে উন্নীত করা হয়। পরে ২০ জানুয়ারি থেকে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নৌবাহিনী ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য মোতায়েন করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সারাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২টি জেলায়, ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে সর্বমোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

এসব ক্যাম্প থেকে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েনের দৃশ্যমান প্রভাব হিসেবে অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মনজুর হোসেন বলেন, গত ২০ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত, অর্থাৎ মাত্র ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার অধিকাংশই বিদেশি পিস্তল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র এবং ২ লাখ ৯১ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নির্বাচনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের কাছে বডি-অন ক্যামেরা থাকছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ড্রোনসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, যাতে দ্রুততম সময়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

নির্বাচনে কোনো দল বা গোষ্ঠী যদি ব্যালট দখল বা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মনজুর হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত আছে। এ কারণেই অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সর্বাধিক সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

Share this news as a Photo Card

Share and Enjoy !

Shares

০২ নভেম্বর ২০২৫

ধর্ম উপদেষ্টা জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমা হবে জাতীয় নির্বাচনের পর

www.janadristi.com